এইমাত্র পাওয়া

বেসরকারি শিক্ষায় বৈষম্য কতকাল?

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। এমনকি বৈষম্যহীন শিক্ষা সংবিধানের অঙ্গীকার।কিন্তু আজ শিক্ষার মত মৌলিক বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষণীয়। একই দেশে ভিন্ন ভিন্ন ধারায় শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে।

যেমন সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট এমনকি বিভিন্ন বিভাগের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

কি আজব দেশ! বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনতার পর পরই যুদ্ধাবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করলেও এতকাল পরে এসেও রাষ্ট্রের কর্তাদের সময় হয়নি মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা। বিলম্ব, অব্যবস্থাপনা আর বৈষম্যই যেন শিক্ষার প্রবাহ !
অন্যদিকে এমপিও ভুক্ত প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকার জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষায় ব্যাপক অর্থ ব্যয় করছে। অথচ এ প্রক্রিয়ার সাথে সামান্য ভাতাদি যোগ করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় আনা যায় সহজেই । এতে শিক্ষায় বৈষম্যও দূরীকরণ সম্ভব।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে দেশ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আসন্ন কিন্তু শিক্ষায় অস্থিরতাও প্রচণ্ড।
সেই ২০০৫ সাল থেকেই বলতে শুনেছি জাতীয়করণ আসন্ন।চলে গেল একযুগ। তবুও মেলেনি কপাল পুরা জাতির মৌলিকতার শিক্ষা সুবিধা।
উপশহর বা উপজেলা কেন্দ্রিক দুটি করে প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় আসলেও গ্রামীন জন গোষ্ঠীর খেটে খাওয়া মেহনতি কৃষকদের সন্তানদের ভাগ্যে সে সুবিধা জোটেনি। এখানে বৈষম্য চরমে রয়েই গেল। এটা তো কাম্য নয়।

সরকার প্রধানের মত ছিল- শিক্ষায় কোন খরচ লাগবে না। কিন্তু সেই মতে বাস্তবায়নের গতি অত্যন্ত ধীর বলে শিক্ষাবিদদের মত।

হাওড়ে নেই হাওড় ভাতা, পাহাড়ে নেই পাহাড়ী ভাতা অথচ নিয়োগ প্রদানে মুখ্য ভুমিকায় সরকার!
অথচ বদলির মত অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে। যা শিক্ষায় বিরাট অস্থিরতার ক্ষেত্র তৈরি করছে।

আজ দেশ কাঁপচ্ছে শিক্ষায় মানব সম্পদ উন্নয়ন সংকটে। কেননা বারবার শিক্ষা কাঠামো পরিবর্তন, আংশিক জাতীয়করণ এবং একই সিলেবাসের অধীনে পাঠ্যক্রমে শিক্ষকদের সরকারি বেসরকারি বলে বিভাজন, শিক্ষকদের সুবিধা প্রাপ্যতার ভিন্নতা এবং যোগ্য হওয়া অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে বঞ্চিত রাখা। এসব নানাবিধ সমস্যা শিক্ষায় অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলছে।

অন্যদিকে শিক্ষকদের আর্থিক সংকটে রেখে শিক্ষায় গবেষণা ও সুষ্ঠু পাঠদান আদৌ সম্ভব কি?

বেসরকারিদের ৫% দিয়ে ১০% কর্তন শিক্ষকদের আর্থিক ব্যবস্থায় আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত সুবিধা না দিয়ে ভাতাদি নামক বেতন স্কেলে কর্তন নামের ছুড়ি চালানো শিক্ষককে দৈন্যতায় ভোগানো ছাড়া আর কি?

যাই হোক রাষ্ট্র যদি শিক্ষা ও শিক্ষককে একই সাথে এগিয়ে না নেই তাহলে শিক্ষার পূর্ণতা আশা করা বোকামি।

তাই কাল বিলম্ব না করে মুজিববর্ষই হোক সেই মাহেন্দ্রক্ষণ যেখানে শিক্ষায় জাতীয়করণ আসন্ন।

লেখকঃ শাহআলম সরকার
সহকারী শিক্ষক (সমাজ বিজ্ঞান)
বাংগালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়।
অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.