ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পন্থী কিছু ছাত্রনেতা প্রয়োজন

রাকিব সিরাজী
আমাদের দুর্ভাগ্য সমস্যা সমাধানের জন্য কমিশনার প্রার্থীকে তার ইশতহারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণপরিবহন নিয়ে ধারা অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। দোষটা ওনার নয়, দোষটা আমাদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু যখন ব্যর্থ তখন একজন কমিশনার প্রার্থী এটা নিয়ে কথা বললে অবাক হওয়ার কিছু থাকে না। ‘ছাত্রনেতা যখন জননেতা সেজে জনতার ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তখন জননেতা ছাত্রদের ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন’, এটাই বোধহয় সায়েন্স।

আমাদের দুর্ভাগ্য ছাত্ররা ডাকসু নেতাকে ভোট দেয় ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার জন্য, কিন্তু ভোটে জেতার পর তিনি ছাত্রনেতার পরিবর্তে জাতীয় নেতা বনে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এনআরসি’র জন্য রক্তারক্তি হয়, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য অনশন হয়, জাতীয় সব ইস্যু নিয়ে সিরিয়াস আন্দোলন হয় কিন্তু একটি হল নির্মাণের জন্য কোন অনশন হয়না, বহিরাগতদের হাত থেকে ক্যাম্পাসকে মুক্ত করতে কোন অনশন হয় না। আমি বলছি না ছাত্রনেতারা দেশ, জাতি, সমাজ নিয়ে ভাববেন না, আমি বলছি না ছাত্রনেতারা আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে চুপ করে থাকবেন, আমি বলছি প্রায়রিটির কথা। আমি বলছি একজন ছাত্রনেতার প্রথম কাজ ছাত্রদের সমস্যা সমাধান করা, আমি বলছি একজন ছাত্রনেতার প্রধান কাজ তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকা।

আমরা জানি সময় ও প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনে ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বহু জাতীয় আন্দোলনকে প্রধান ইস্যু হিসেবে নিয়েছে, শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফুর্তভাবে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু এখন সময় বদলেছে,শতাব্দী পরিবর্তন হয়েছে, প্রেক্ষাপট পাল্টেছে। ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া ডাকসুর কাছেও তাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল শতাব্দীর ডিমান্ড অনুযায়ী। অবশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাইরে বহু মানুষের বহু প্রত্যাশা থাকে ডাকসুর কাছে এবং দুঃখজনকভাবে বাইরের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ীই সারা বছর শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যক্রমে মনোযোগ বেশি লক্ষ্য করেছি। আমরা হতাশ!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ যাবৎকালে বহু আওয়ামী লীগপন্থী, বিএনপিপন্থী,জাসদপন্থী ভিপি পেয়েছে, কিন্তু খুব সম্ভবত একজনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পন্থী ভিপি পায়নি। মানুষ জন্মগতভাবেই রাজনৈতিক, তার রাজনৈতিক আদর্শ থাকবে, দলের প্রতি সমর্থন থাকবে এটা দোষের কিছু না।

কিন্তু আপনি যখন ডাকসুর সর্বোচ্চ নেতা, তখন আপনাকে অবশ্যই সবার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে ভাবতে হবে। জানিনা ডাকসু আবার হবে কি না। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানের জন্য বা আন্দোলনের জন্য যে দেশে এই মুহূর্তে বহু মানুষ রয়েছে, সেই দেশে আমার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট, পরিবহন সংকট, বহিরাগত সংকটের মত অসংখ্য সংকট সমাধানের জন্য আমাদের কিছু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পন্থী ছাত্রনেতা প্রয়োজন, খুব প্রয়োজন।

লেখক: এস. এম. রাকিব সিরাজী: সাবেক সভাপতি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.