এইমাত্র পাওয়া

দলীয় প্রভাবের বাইরে থেকে কাজ করতে চান ডিসিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাজনৈতিক দলের প্রভাবের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করতে চান ডিসিসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আর সরকারের চাওয়া কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা। আগামী ৩ মে ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সারসংক্ষেপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করার পর বিএনপি সরকারের অধীনে এটিই প্রথম সম্মেলন হওয়ায় নীতিনির্ধারণ, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের আলোচ্যসূচি সাজানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

৮ বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিদের পাঠানো ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৪৯৮টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের মধ্যে অগ্রাধিকার পেয়েছে জ্বালানি, আইনশৃঙ্খলা, সেবা ও উন্নয়ন। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকায় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতার কারণে মাদকমুক্ত সমাজ নিশ্চিত করতে না পারা, সীমান্ত দিয়ে অবাধে মাদক আসা প্রতিরোধ, ভারতের ফারাক্কা বাঁধের ভয়াবহতা থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রক্ষা করতে দ্রুত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা।

একইসঙ্গে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার প্রায় দেড় লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট) জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (দ্বিতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নেরও প্রস্তাব এসেছে।

এছাড়া ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যেন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারেন সে জন্য আইন পরিবর্তন করা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদান নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট ভাষায় শিক্ষক নিয়োগ এবং কওমি মাদরাসা স্থাপনে নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাবও দিয়েছেন ডিসিরা।

স্থানীয় পর্যায়ে কর্ম-সৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন, গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ও উঠে এসেছে প্রস্তাবে। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা ও এগুলোর কার্যক্রম জোরদারের বিষয়েও ডিসিরা একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন।

বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের প্রস্তাবে জনদুর্ভোগ কমানো, ভূমি ব্যবস্থাপনা, জনসেবা ও স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ, দেশব্যাপী পর্যটনশিল্পের বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ গুরুত্ব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এছাড়া ডিজিটাল পরিসরে গুজব ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। জেলা পর্যায়ে তথ্য যাচাই, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত কৌশল চাওয়া হয়েছে ডিসিদের প্রস্তাবে।

৩ মে সকাল সাড়ে ১০টায় ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পরই ডিসিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ‘মুক্ত আলোচনা’ হবে। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশনও থাকবে। সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নৈশভোজের আয়োজন রাখা হয়েছে। গত বছরের ডিসি সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি ছিল না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান সাংবাদিকদের জানান, এ বছর ৫৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কার্যালয় ও সংস্থার বিষয়াদি ৩৪টি কার্য-অধিবেশনে আলোচনা হবে। এবার বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেলেও যাচাই-বাছাই করে ৪৯৮টি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ প্রস্তাবগুলো নিয়েই সম্মেলনে আলোচনা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ দ্বিমত করায় এবং আগের ডিসি সম্মেলনে উপস্থাপিত হওয়ায় অনেক প্রস্তাব এবার কার্যপত্রে রাখা হয়নি। এবারের সম্মেলন আগামী ৬ মে শেষ হবে। এবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে জেলা প্রশাসকরা সাক্ষাৎ করবেন বলেও জানান তিনি।

কার্য-অধিবেশনগুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। অধিবেশনের সময় ৪৯৮টি ছাড়াও ডিসিরা তাৎক্ষণিক বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরতে পারবেন। কার্য-অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানিয়েছেন, প্রশাসনকে ‘শাসক’ নয়, ‘সেবক’ হিসেবে পুনর্গঠনের বার্তাই এবার প্রধান্য পাবে ডিসি সম্মেলনে। তিনি বলেন, ডিসিরা সরকারের নীতি ও কর্মকৌশল বাস্তবায়নের প্রধান মাধ্যম। আমরা চাই মাঠ প্রশাসন সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করুক। পদোন্নতি, পদায়ন ও বদলিতে যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়। তারা দেশের জন্য কাজ করবেন। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তা বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো দরকার, আমরা সেটি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি।

শিক্ষাবার্তা /এ/ ৩০ /০৪/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.