এইমাত্র পাওয়া

কালবৈশাখী, শিলাবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

উত্তর, উত্তর-পশ্চিম, হাওরাঞ্চল এবং পার্বত্য এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া কালবৈশাখী, শিলাবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে ফসলহানি, বসতবাড়ি ধ্বংস, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নীলফামারী, রংপুর, পঞ্চগড়, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নওগাঁ এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশের বিভিন্ন স্থানে রোববার ও আগামী দুই দিন বৃষ্টি হবে। সঙ্গে থাকতে পারে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া। বিশেষ করে রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরাঞ্চল ও নদ-নদীর পানি সামান্য বেড়েছে, তবে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। সুরমা, কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীর পানি সামান্য বাড়বে বা স্থিতিশীল থাকবে।

নীলফামারীর ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা ও সদর উপজেলার কৃষকরা কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবের কারণে তাদের আবাদি জমি থেকে সমস্ত ফসল হারিয়েছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে থেমে থেমে ঝড়ো হাওয়া ও শিলার আঘাতে ভুট্টা, বোরো ধান, কলা, মরিচ এবং শাকসবজি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া এলাকার টিনের ঘর, স্কুলের ছাউনিসহ হাজার হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে। জলঢাকার কৈমারি ও শৌলমারি ইউনিয়নের অন্তর্গত ২৫-৩০টি গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রংপুর নগরীতে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে টিনের ঘরে লেগে পুরো বাড়ি বিদ্যুতায়িত হয়। এর প্রভাবে কাজলী বেগম (৫০) নামে এক নারী মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে পরিবারের আরও চারজন বিদ্যুৎস্পর্শে আহত হন।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের অন্তত ৬টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। বোরারঘাট নদীর বাঁধ ভেঙে ঢল গ্রামে প্রবেশ করেছে। ফলে বোর ধানক্ষেত, বাদাম, ভুট্টা ও রবি শস্য পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। একপর্যায়ে নদীর বাঁধ উপচে ও ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে আশপাশের গ্রামগুলোতে। মানুষজন বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

পঞ্চগড়ের চানপাড়া এলাকায় ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়লে চাকাতি বালা (৭৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। ঘরটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় তিনি বের হতে পারেননি। হাজারের বেশি গাছ উপড়ে পড়েছে।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর মাঠে পেঁয়াজ তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে সুরুজ মিয়া (৪০) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজ ক্ষেতের মধ্যে বজ্রপাতে দুই কৃষক মারা গেছেন। নওগাঁর পত্নীতলায় গম কাটার সময় বজ্রপাতে আশরাফ আলী (৩২) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, আহত চারজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষাবার্তা /এ/২৯/০৩/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.