নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে পূর্বনির্ধারিত ছুটি থাকায় টানা পাঁচ দিন বন্ধ ছিল দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি ও ভোকেশনাল এবং প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) থেকে আবারও স্বাভাবিক পাঠদান শুরু হতে যাচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বার্ষিক ছুটির তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বছরের শুরুতেই এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতি। নির্বাচনের কারণে দুই দিনের ছুটি যুক্ত হওয়ায় ধারাবাহিকভাবে পাঁচ দিনের অবকাশ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ধর্মীয় উৎসব হিসেবে শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। ফলে নির্বাচন-সাপ্তাহিক ছুটি-ধর্মীয় ছুটি—এই তিন কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো টানা বন্ধ থাকে। তবে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস-আদালত চার দিনের ছুটির পর ১৫ ফেব্রুয়ারি খুললেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলছে এক দিন পর, ১৬ ফেব্রুয়ারি।
এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজধানীর এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “টানা ছুটি ভালো লাগলেও পড়াশোনার ধারাবাহিকতায় একটু ছন্দপতন হয়। বিশেষ করে পরীক্ষা কাছাকাছি থাকলে চাপ বেড়ে যায়।” এক অভিভাবক জানান, “ছুটির পরিকল্পনা আগে থেকে জানা থাকলেও নির্বাচনের কারণে হঠাৎ বাড়তি ছুটি যুক্ত হওয়ায় অনেকের রুটিনে পরিবর্তন আসে।”
শিক্ষাবিদদের মতে, জাতীয় প্রয়োজন ও ধর্মীয় সহাবস্থানের বাস্তবতায় ছুটি অনিবার্য হলেও পাঠদানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিকল্প পরিকল্পনা থাকা উচিত। একজন শিক্ষা বিশ্লেষক বলেন, “শুধু ছুটি ঘোষণা করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। অনলাইন ক্লাস, অতিরিক্ত ক্লাস বা একাডেমিক ক্যালেন্ডার সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ প্রয়োজন।”
এদিকে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সিলেবাস ও পাঠসূচি অনুযায়ী একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। টানা ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পাঠদানে গতি ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে নির্বাচন থেকে শিবরাত্রি—এই সময়ের টানা পাঁচ দিনের ছুটি দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি তৈরি করলেও ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে শ্রেণিকক্ষ। এখন দেখার বিষয়, এই বিরতির প্রভাব কতটা দ্রুত কাটিয়ে স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল