এইমাত্র পাওয়া

প্রাথমিকে শিক্ষার মান নিয়ে ‘নেপ’-এর উদ্বেগজনক তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক।।  দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদানের চেয়ে দাপ্তরিক ও পেশাবহির্ভূত কাজের চাপেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। ভোটার তালিকা প্রণয়ন থেকে শুরু করে জন্ম-মৃত্যু জরিপ—এমন অন্তত ৩৭ ধরনের নন-প্রফেশনাল কাজ করতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

সমীক্ষার ভয়াবহ কিছু তথ্য:

মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে উঠে আসা উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:

  • মনোযোগের অভাব: অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলে শ্রেণিকক্ষে ফেরার পর ৯০ শতাংশ শিক্ষক পাঠদানে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারছেন না।

  • সময়ের অপচয়: একজন শিক্ষককে মাসে গড়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে পেশাবহির্ভূত কাজে।

  • শিক্ষার্থীদের ক্ষতি: ৮৫ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন, অতিরিক্ত কাজের চাপে তারা পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বা ‘রেমিডিয়াল’ ক্লাস নিতে পারছেন না। এর ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও কমছে।

  • অর্থনৈতিক প্রভাব: গবেষণায় দেখা গেছে, একজন সহকারী শিক্ষক প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪,১১৬ টাকার সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা ব্যয় করছেন অশিক্ষণমূলক কাজে।

“প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে প্রতিটি স্কুলকে একটি ‘অটোনোমাস বডি’ বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মতো গড়ে তুলতে হবে।”

বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, উপদেষ্টা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

উত্তরণের ৫ সুপারিশ:

প্রাথমিক শিক্ষার মান রক্ষায় সমীক্ষায় পাঁচটি জরুরি সুপারিশ করা হয়েছে:

১. ক্লাস চলাকালীন কোনো প্রকার তথ্য সংগ্রহ বা প্রশাসনিক কাজের চাপ দেওয়া যাবে না।

২. প্রতিটি স্কুলে অফিস সহকারী বা ডিজিটাল সহকারী নিয়োগ দিতে হবে।

৩. একটি একক ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে সব দাপ্তরিক কাজ সমন্বয় করতে হবে।

৪. শিক্ষকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৫. শিক্ষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ‘পাঠদান সময় সুরক্ষানীতি’ প্রণয়ন করা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা একমত পোষণ করেন যে, শিক্ষকদের ওপর থেকে এসব অতিরিক্ত কাজের বোঝা না কমালে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব নয়।

শিবা/জামান


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.