নিউজ ডেস্ক।।
বাংলাদেশের মতো দেশে জাতীয় নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নিরাপত্তায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের মধ্যে বিচারব্যবস্থা, রাজস্ব বোর্ড ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিরাপত্তার প্রশ্নে আস্থা নষ্ট হলে রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ে। এখন জাতীয় নিরাপত্তার প্রচলিত সংজ্ঞা আগের মতো নেই।
গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা : গণতান্ত্রিক শাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এ সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপের সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সভাপতি জিল্লুর রহমান।
সংলাপে সাবেক আইজিপি ড. এম এনামুল হক বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।
এর মধ্যে বিচারব্যবস্থা ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি রাজস্ব বোর্ড এবং পরিবহন খাতসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। নতুন কমিশন গঠন না করে একটি মাত্র কমিশনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী কমিশনগুলোর কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত। পুলিশের ক্ষেত্রে এফআইআরসংক্রান্ত সমস্যাজনক চর্চা বন্ধ করাও জরুরি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে জাতীয় নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নিরাপত্তার প্রচলিত সংজ্ঞা এখন আর আগের মতো নেই। বর্তমানে নিরাপত্তা বহুমাত্রিক ও বৈচিত্রপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশে নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ দেখা দেবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পুরোনো নিরাপত্তাব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন হবে।
অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রভাব ও বহিরাগত ঝুঁকিও রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন জ্ঞান ও সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, অংশীজন ও জনগণের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন, নাগরিক অধিকার সুরক্ষার মূল ভিত্তি হলো একটি স্বাধীন ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক শাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। বর্তমান সরকার মবের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশ ও আমলাতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করার বদলে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হচ্ছে। এসব বাহিনীর মনোবল ফিরিয়ে আনা জরুরি। সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ বলেন, নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত না হলে জনআস্থা আরও দুর্বল হবে। গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারওয়ার মিলন, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মোশতাক হোসেন, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন প্রমুখ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
