এইমাত্র পাওয়া

নতুন শিক্ষাক্রম প্রস্তুতের কাজ আপাতত স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক।। 

২০২২ খ্রিষ্টাব্দে সর্বশেষ যে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণীত হয়েছিল, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে তা বাতিল করা হয়। কারণ, এই শিক্ষাক্রমের ব্যাপারে প্রবল জন–অসন্তোষ ছিল। বিপরীতে ঘোষণা দেওয়া হয়, ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চালু করা হবে। কিন্তু সেটিও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এতে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের আগে কারিকুলাম প্রস্তুত এবং সেটি বাস্তবায়ন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

যদিও আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার সুবাধে তাদের নিজেদের মতো করে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিতর্কিত একটি কারিকুলাম চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছিল। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকেই সরকারি চাপ এবং বিদেশি চক্রের কূটকৌশলের কারণে প্রাথমিকের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণীতে বহু বিতর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে পাঠ্যসূচি তৈরি করা হয়। তবে ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর বিতর্কিত সব বিষয় বাতিল করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা দিয়ে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের কারিকুলামে ফিরে যায়। একই সাথে আগের বইয়ের বিভিন্ন প্রশ্নবোধক বিষয় বাদ দিয়ে নতুনভাবে সাজানো হয় শিক্ষাক্রম।

এ দিকে এনসিটিবি সূত্র জানায়, সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই সময়ে নতুন করে কোনো কারিকুলাম প্রস্তুতের কাজ শুরু করা ঠিক হবে না। কেননা নির্বাচিত প্রত্যেক সরকারেরই নিজস্ব একটি প্ল্যান থাকে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আগামীতে যে দলের সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা চাইবে তাদের চিন্তাধারা কিংবা নিজস্ব কোনো পরিকল্পনা থাকলে সেটি সেই সরকারের বিবেচনায় নিয়ে সেভাবেই শিক্ষা সংস্কার কিংবা শিক্ষা কাঠামো সাজানোর। তাই নির্বাচন যেহেতু একেবারেই দোরগোরায় চলে এসেছে, কাজেই কারিকুলাম প্রস্তুতের কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে কারিকুলাম প্রস্তুতের আগের ফ্রেমওয়ার্ক বা কাজের পরিকল্পনার জন্য কিছু কাজ এগিয়ে রাখা হবে। বর্তমানে যেহেতু এনসিটিবির সব কর্মকর্তা পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও তদারকির কাজে ব্যস্ত। তাই আগামী ২০ জানুয়ারির পরেই এ বিষয়ে কিছু কাজ শুরু করা হবে।

সূত্র জানায় ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু শিক্ষা কমিশন গঠন ও শিক্ষানীতি চূড়ান্ত না করে নতুন কারিকুলামের দিকে গেলে সেটাও ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। কারিকুলাম বাস্তবায়নের আগে পাইলটিং প্রক্রিয়ায় যাবে কি না সেটা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে খোদ এনসিটিবি।

বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের কারিকুলাম পরিবর্তন হয়েছে বহুবার। যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সে সরকারই তার দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে এ শিক্ষাকে। ফলে বহুমুখী শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত দক্ষ জনগোষ্ঠীও তৈরিতে রয়ে গেছে দুর্বলতা। সব শেষ পতিত আওয়ামী লীগ সরকার প্রণীত শিক্ষাক্রমে যা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সক্ষমতা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে সম্পূর্ণ নতুন একটি কারিকুলাম চাপিয়ে দেওয়া হয়। দিনশেষে লেজেগোবরে অবস্থায় ব্যর্থ হয় সেই অপরিকল্পিত কারিকুলাম।

এ  বিষয়ে এনসিটিবি প্রধান সম্পাদক (অতিরিক্ত দায়িত্ব কারিকুলাম) অধ্যাপক ফাতিহুল কাদীর সম্রাট জানান, একটি নতুন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে কিভাবে তারা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাজাবেন। জাতীয় নির্বাচন যেহেতু আসন্ন তাই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরেই তাদের ইচ্ছা পরিকল্পনা এবং দূরদৃষ্টির আলোকে অবশ্যই দেশের শিক্ষা কাঠামোকেও সেই আলোকে সাজাবেন। তাই আপাতত কারিকুলামের কাজ হচ্ছে না। তবে কারিকুলাম প্রস্তুতের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ করা দরকার সেটি চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। আর আগামী ২০ জানুয়ারির পর থেকে কারিকুলাম বিষয়ে আরো কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেয়া হবে।

 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading