এইমাত্র পাওয়া

নতুন বছরে শিক্ষার্থীদের চোখে আগামীর বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। 

নতুন বছর মানেই শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে যাওয়া নয়, বরং নতুনভাবে ভাবা, নতুন করে দায়িত্ব নেওয়া এবং আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার এক নীরব প্রত্যয়। ২০২৬ সালের শুরুতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কথা বলছেন শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন, নিরাপদ ক্যাম্পাস, দক্ষতা অর্জন এবং মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যাশা নিয়ে। ব্যক্তিগত স্বপ্নের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও শিক্ষাঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়েও উঠে এসেছে তাদের ভাবনা। এই প্রত্যাশা ও সংকল্পের কথাই তুলে ধরেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাজিউল ইসলাম শান্ত।

নতুন বছর মানেই নিজের জায়গা থেকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ। ২০২৬ সালে এসে শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সিজিপিএ কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে দক্ষতা ও বাস্তব জ্ঞানের দিকে মনোযোগ দেওয়া। বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকল্প নেই। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপদ, সহিংসতামুক্ত ও রাজনৈতিক প্রভাবহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীরা যেন ভয় নয়, আত্মবিশ্বাস নিয়ে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারে। নতুন বছর সবার জীবনে পরিবার, দেশ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করুক এটাই প্রত্যাশা।

নতুন বছর আমাকে নিজের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে শেখায়। পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং অলসতা থেকে দূরে থাকা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি বিশ্বাস করি আত্মোন্নয়ন শুরু হয় আত্মশৃঙ্খলা থেকে। পরিবার ও শিক্ষকদের সম্মান করা এবং সমাজের জন্য অন্তত সামান্য হলেও ইতিবাচক কিছু করার মানসিকতা গড়ে তুলতে চাই। নিয়মিত পরিশ্রম ও সততার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব এই বিশ্বাস নিয়েই নতুন বছরে পা রাখছি।

নতুন বছর আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়, পাশাপাশি বাড়িয়ে দেয় দায়িত্বও। শিক্ষার্থীদের কাছে আমার প্রত্যাশা তারা যেন কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ না থাকে। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি বিজ্ঞানমনস্কতা ও গবেষণাভিত্তিক চিন্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মেধার সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা যুক্ত না হলে শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নতুন বছরে শিক্ষার্থীরা যেন আলোকিত ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলে।

নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা শুধু ব্যক্তিগত নয়, রাষ্ট্র ও সমাজকেন্দ্রিক। দুর্নীতি কমাতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে এবং মানবিক উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধের দ্রুত বিচার একটি সুস্থ রাষ্ট্রের পূর্বশর্ত। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কেবল জনগণের স্বার্থে কাজ করে এবং জবাবদিহিতার আওতায় থাকে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ বিবেচনায় নারী অধিকার ও মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করি।

নতুন বছর আমাকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বাস্তবভাবে ভাবতে শেখায়। এটি আমার স্নাতক জীবনের শেষ পর্যায়। তাই নতুন বছরে আমি নিজেকে আরও দক্ষ ও প্রস্তুত করতে চাই। ইন্টার্নশিপ, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ শুরু করতে চাই এই বছরেই। কমফোর্ট জোন ভেঙে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়েই একজন পরিণত মানুষ হওয়া সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি। আশা করি এই বছর আমাকে আত্মবিশ্বাসী ও লক্ষ্যনির্ভর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।

বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও গবেষণামুখী করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। এখনো আমাদের অনেক ক্ষেত্রে সেকেলে শিক্ষাপদ্ধতি বহাল রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও গবেষণার আগ্রহ কমিয়ে দেয়। নতুন বছরে শিক্ষা ব্যবস্থায় বাস্তবমুখী ও গবেষণাভিত্তিক সংস্কার আসুক এটাই প্রত্যাশা।

নতুন বছর মানে নিজের সঙ্গে নতুন করে প্রতিশ্রুতি করা। এই বছরে আমি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চাই। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। দক্ষতা বৃদ্ধি, ধৈর্য অর্জন এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার আমার প্রধান লক্ষ্য। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি বিশ্বাস করি সাহস ও অধ্যবসায় থাকলে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading