মুস্তাফা সেলিম :
একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠান শেষে গতকাল রাতে ছায়ানট ভবনের ফুটপাতে সামনে দাঁড়িযে আড্ডা দিচ্ছিলাম লেখক সেলিম সোলায়মানের সঙ্গে। এ সময় এক মহিলা এগিয়ে এলেন। চাইলেন অর্থ সাহায্য।
রাত এগারোটার সময়েও আপনি ভিক্ষা করছেন? এশার নামাজ পড়ে বেরিয়েছি। কী করবো বাবা, দুটো নাতি যে পড়াই আমি। একজনকে এ বছরে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি পঁচিশ হাজার টাকা দিয়ে। কথাবার্তা আর না বাড়িয়ে যথা কর্তব্য, তাই সম্পন্ন করলাম। রাত পেরোলো। সকালে অফিসে রওয়ানা হওয়ার পথে এরকম আরেকজনের সঙ্গে দেখা মেলে। এই রিকশাচালক গন্তব্যে যাওয়ার কথা বললে রাজি, তবে তিনি অন্যমনস্ক, উদ্বিগ্ন।
মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। বললেন, তার ফোনে ঝামেলা হয়েছে, কোন ফোন আসছে না। রসিকতা করে বললাম, বাড়িতে কী বউ আছেন? লজ্বা পেলেন যুবক বয়েসি এই রিকশাচালক। না না, তা না।
আমার ছেলে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। ওকে স্কুলে ভর্তি করে ফিরেছিতো? ওর খোঁজ খবরের জন্য টেনশন! তারপর জানালেন, ওকে ষষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি করেছেন ৩৫০০ টাকা ফি দিয়ে। মাসিক বেতন ৫০০ টাকা। টিউশনির জন্য আরো ১০০০ টাকা ওর পেছেনে ব্যয়। মাত্র বারো ঘন্টায় মধ্যে এ দুটো কেস স্টাডি কী বার্তা দেয় আমাদের।
চরম দরিদ্র মানুষেরাও শিক্ষাকে যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তাতে আমাদের দেশের অশিক্ষার হার ক্রমেই শুন্যে নেমে আসার কোনো ইঙ্গিত মেলে তাতে?
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
