নিউজ ডেস্ক।।
সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা তালাবদ্ধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ২ মিনিটে সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মোহাম্মদ সামছুদ্দীন বাংলানিউজকে জানান, কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং রোববার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য তিন দফা দাবি আদায়ে পরিষদ ও ঐক্য পরিষদের চলমান কর্মসূচি চলছে। তবে নৈতিকতা, মানবিকতা এবং সন্তানতুল্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় আগামী রোববার (৭ ডিসেম্বর) থেকে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা ‘তালাবদ্ধ’ কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। রোববার থেকে সব শ্রেণির তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক পরীক্ষা) শুরু হবে।
এতে আরও জানানো হয়, উভয় পরিষদের আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের দাবিগুলো হলো— ১. সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবির প্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আপাতত ১১তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারি। ২. ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দূর করা। ৩. সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে ২২ দিন পার হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় পরিষদ এবং সংগঠন ঐক্য পরিষদ যৌথ ভার্চুয়াল মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করে।
সেই দিনই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেয়। মন্ত্রণালয় জানায়, নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরপরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। বছরের শেষে বার্ষিক পরীক্ষার সময় আন্দোলনে থাকার কারণে শিক্ষকদের অন্য জেলায় বদলি করা হচ্ছে; পাশাপাশি শোকজ নোটিশও দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মোহাম্মদ সামছুদ্দীনকে নোয়াখালী থেকে লক্ষ্মীপুরে বদলি করা হয়। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার কুপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরলক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হন।
এছাড়া আরও ৪২ জন শিক্ষককে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে।
মোহাম্মদ সামছুদ্দীন জানান, আমাকে–সহ সারা দেশে অনেককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
তার আগের দিন আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
