এইমাত্র পাওয়া

দেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করবে পশুপালন গ্র্যাজুয়েট

তানিউল করিম জীম , বাকৃবি প্রতিনিধি
সুস্থ সবল জাতি গঠনে প্রাণিজ আমিষ অপরিহার্য। দেশে প্রানিজ আমিষের চাহিদা পুরণের জন্য যথেষ্ট পরিমান উৎপাদন প্রয়োজন। গত ১০ বছরে বাংলাদেশে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের সাথে সাথে প্রাণিসম্পদেরও আমূল পরিবর্তন এসেছে। প্রাণিসম্পদের পরিমান প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুধ, ডিম ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।

‘বাংলাদেশ অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি অ্যাসোসিয়েশন’ (বাহা) কর্তৃক আয়োজিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন বাকৃবির পশু পুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম। শনিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ওই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

তিনি আরোও বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষ মাথাপিছু গড়ে প্রতিদিন ১৬৫মিলি দুধ, ১২৫গ্রাম মাংস পাচ্ছে এবং বছরে ১০৪ টি ডিম খেতে পারছে। যা মানুষের প্রাত্যহিক আমিষ চাহিদার অধিকাংশ মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। প্রাণিসম্পদের এই উন্নয়নে পশুপালন গ্র্যাজুয়েটদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের প্রতি জোর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিবৃন্দদের ফুল দিয়ে সম্মান প্রদান করা হয়। সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাহা’র মহাসচিব আবু সাইদ মো. কামাল। তারপর বগুড়া-১ আসনের এমপি কৃষিবিদ আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

বাহা’র সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খসরু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ, পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুল জব্বার শিকদার ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই ধারাবাহিতকা ধরে রাখতে উন্নত শিক্ষা ও গবেষণা দরকার। দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য সবাইকে এক হয়ে কাজ করে যেতে হবে। দেশের প্রাণিজ আমিষের একটা অংশ পোল্ট্রি সেক্টর থেকে আসে। কিন্তু প্রাণিজ আমিষের অন্যতম ডেইরি সেক্টর তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে। ডেইরি সেক্টরের উন্নয়নের জন্য সরকার ইতোমধ্যে পাঁচশত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে দুধের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.