এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষকবিহীন পরীক্ষার হলে হযবরল অবস্থা, অভিভাবকদের ক্ষোভ

নাটোর: তিন দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতির ফলে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের অনুপস্থিতে সোমবার (১ ডিসেম্বর) উপজেলার ৫৬টি বিদ্যালয়ে একযোগে তৃতীয় পর্যায়ের প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষা শুধু নামেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে,পর্যাপ্ত তত্ত্ববধান না থাকায় পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। একজন প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরির ওপর সম্পূর্ণ পরীক্ষার দায়িত্ব পড়ে যাওয়ায় কোনো সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কক্ষে শিক্ষার্থীরা চিৎকার চেঁচামেচি, হাঁটাহাঁটি, বই খুলে লেখা সব ধরনের অনিয়মই ঘটছে। সারা বছর পড়াশোনা করে পরীক্ষার দিন এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে এটা কেউই ভাবেনি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষা বন্ধের দাবি তুলেছেন।

পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদ হাসান, মেধা ও কথা বলেন, শিক্ষক ক্লাসে আসুক, না হলে পরীক্ষা বন্ধ করে দিক। কোনো শৃঙ্খলা নেই, সবাই চেঁচামেচি করছে এই পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব না।

অভিযোগ করে পৌর এলাকার পেড়াবাড়িয়া মহল্লার এক অভিভাবক বলেন, সকালে মেয়েকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসে দেখি শিক্ষকরা নেই। আগে থেকে জানতাম না যে তারা পরীক্ষা বর্জন করছেন। সারা বছর ক্লাস করে তৈরি হয়ে পরীক্ষা দিতে এসে এমন বিশৃঙ্খলা! এতে বাচ্চাদেরই ক্ষতি হচ্ছে। খাতা দেওয়ার মতো কেউ নেই। একজন প্রধান শিক্ষক কতগুলো কক্ষ সামলাবেন। এভাবে পরীক্ষা হলে সন্তানরা ধ্বংস হয়ে যাবে। তার চেয়ে পরীক্ষা বন্ধ করে দিলেই ভালো হয়।

পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন,আমাদের বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকায় আমার ও দপ্তরির ওপরই সব দায়িত্ব পড়েছে। এটা খুবই কষ্টসাধ্য।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধি পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সামিম শাহারিয়া জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। দাবি বাস্তবায়ন হলে ছুটির দিনগুলোতেও পরীক্ষা তারা নেবেন।

তিনি বলেন, তারা বাচ্চাদের জিম্মি করতে চায় না। সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা দ্রুত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করলে তারা ক্লাসে ফিরে যাবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার শামসুজ্জামান বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট কি না এ প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। বরং জানিয়েছেন, অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায় এখনও বিদ্যালয়গুলোতে তিনি যাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন,সমস্যাটি হঠাৎ করে শুরু হয়েছে। পরীক্ষা বন্ধ করার সিদ্ধান্তে তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়, এটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়। যেহেতু সমস্যা সারা দেশের তাই এ বিষয়ে দ্রুতই একটি সিদ্ধান্ত আসবে বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০১/১২/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading