এইমাত্র পাওয়া

“এমপিও না পাওয়া পর্যন্ত প্রেসক্লাবে অবস্থান: প্রধান সমন্বয়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক।। 

নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার দাবিতে সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিক্ষকরা টানা ২৫ দিন ধরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। “নন এমপিও ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে চলমান এই আন্দোলনে প্রতিদিন নতুন শিক্ষক যুক্ত হচ্ছেন, বাড়ছে দাবি আদায়ের চাপও।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, তাদের দাবি একটাই—সরকার নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার চূড়ান্ত ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। কঠোর সংগ্রামের এই পথচলায় প্রতিদিনই নানা বাধা-বিপত্তির মুখে পড়তে হয়েছে। মাঝেমধ্যে পুলিশি চাপ, জলকামান ও বাধা সৃষ্টি করেও আন্দোলন থামাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। বাধা পেরিয়ে শিক্ষকরা আবারও প্রেসক্লাবেই জড়ো হয়েছেন, যেখানে তারা দিন-রাত কাটাচ্ছেন মানবেতর পরিবেশে।

প্রতিদিন রাতের মতো বুধবার রাতেও প্রেসক্লাবে রাত্রিযাপনকারী শিক্ষকরা ছিলেন একই দৃঢ়তায়। আন্দোলন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, ‘নন এমপিও ঐক্য পরিষদ’-এর প্রধান সমন্বয়ক প্রিন্সিপাল সেলিম মিয়া দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, মনোবল শক্ত রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের নৈতিক ও মানবিক প্রেরণা জোগাচ্ছেন বলে জানান উপস্থিত অনেকে।

একজন সাধারণ শিক্ষক বলেন, “আমরা এমন নেতা পাইনি। প্রিন্সিপাল সেলিম মিয়ার মতো নেতা দিনে-রাতে আমাদের অভিভাবকের মতো পাশে থাকেন, আমাদের মনোবল বাড়িয়ে দেন। তার অনুপ্রেরণায় আমরা আরও দৃঢ় হচ্ছি।”

আন্দোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক প্রিন্সিপাল সেলিম মিয়া বলেন, “আমাদের দাবি ন্যায়সঙ্গত। বছরের পর বছর নন-এমপিও শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারের উচিত দ্রুত সমাধান দেওয়া। শিক্ষক সমাজ আজ রাস্তায়—এটা কোনো দেশের জন্যই মর্যাদার বিষয় নয়। আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

নবাবগঞ্জ থেকে আন্দোলনে যোগ দেওয়া পরিষদের আরেক নেতা মোবারক হোসেন বলেন, “২৫ দিন হয়ে গেলো আমরা পরিবার-পরিজন থেকে দূরে প্রেসক্লাবে পড়ে আছি। সব বাধা পেরিয়ে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি শুধু একটি দাবির জন্য—এমপিওভুক্তি। সরকারের কাছে আমরা ন্যায়বিচার চাই।”

কিছু সাধারণ শিক্ষক জানান, দীর্ঘ আন্দোলনে তাদের জীবনযাপন এখন ন্যূনতম ব্যয়েও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলেন, “অনেক দিন ধরে আমরা দুই বেলা কলা-রুটি খেয়েই কাটাচ্ছি। সামনে হয়তো সেটার টাকাও জুটবে না। তখন ভিক্ষা করেও টিকে থাকব, কিন্তু এমপিওভুক্তি ছাড়া প্রেসক্লাব ছেড়ে যাব না।”

শিক্ষকদের এমন কঠোর, মানবেতর অবস্থান দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আন্দোলনকারীরা আশা করছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে এবং দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত নন-এমপিও শিক্ষকদের জীবন-সংগ্রাম অবসান হবে।

তাদের একটাই দাবি—“সমাধান ছাড়া ঘরে নয়, এমপিও চাই এখনই।”


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.