এইমাত্র পাওয়া

মাধ্যমিক শিক্ষায় হ-য-ব-র-ল নীতি

বিন-ই-আমিন।। 

শিক্ষা যেকোনো জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতিই উন্নতি করতে পারেনা। একটি জাতির উন্নতির প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা।

আর এই হাতিয়ার নিয়ে যদি চলে সকাল- বিকাল পরিবর্তন, ঘনঘন পরিপত্র জারি আবার বাতিল তাহলে সে হাতিয়ার স্থায়ী সুফল আনতে পারে না।

 বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় মূল কাঠামো মাধ্যমিক লেবেলে। মাধ্যমিক পাসের আগে ও পরে অনেকে কর্মসংস্থানে প্রবেশ করে। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণ,কারিগরি ও মাদরাসায় বিভক্ত। সরকারিভাবে শতকরা সর্বোচ্চ ৫ ভাগের অবদান থাকলেও বেসরকারিভাবেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সব।

এখানেই সরকারের গোঁড়ায় গলদ অবস্থা। একই সিলেবাস পড়িয়ে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সরকারি সকল সুবিধা ভোগ করেন। আর বেসরকারি শিক্ষকগণ সকল দূর্বল মেধা ও দুর্বল আর্থিক অবস্থার শিক্ষার্থীদের ভর্তি করিয়ে তাদের ভালো ফলাফল উপহার দেন। এখানেই একজন প্রকৃত শিক্ষকের অবদান।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা আছেন সবচেয়ে অবহেলিত। কমিটি দ্বারা নির্যাতিত। প্রধান শিক্ষক কর্তৃক শোষিত। অভিভাবক কর্তৃক অবহেলিত। 

সরকার বর্তমানে শতভাগ বেতন দিচ্ছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের। সকল নিয়োগ সরকারের হাতে। বিগত সময়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান( অধ্যক্ষ- উপাধ্যক্ষ, সুপার -সহ:সুপার) মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ হতো। অযোগ্য লোকদের নিয়োগ হতো।

তোষামোদকারী লোক নিয়োগ হতো। তারা কখনোই কমিটির বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বাহিরে ন্যায্য অথবা ন্যায়ের পক্ষেও কথা বলতে পারেনি কিংবা সভাপতি ও সদস্যদের বিরোধিতা বা প্রতিবাদ করতে পারেনি। এখন সময় এসেছে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা দূর্ণীতি ও স্বজনপ্রীতি মুক্ত রাখার। সেজন্য কমিটির তদারকি বা নজরধারী বাদ দিতে হবে।

বৃটিশ আমলের এই প্রথা বাতিল করতে হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সভাপতি বানালে আবারও বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা দলীয়করণ হবে। অযথা হয়রানির শিকার হবে শিক্ষক কর্মচারীরা। মানসম্মত ও গুনগত শিক্ষা উপহার দিতে পারবেনা। কারন তাদের থাকবেনা কোনো স্বাধীনতা।

সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে চলে? সেখানে একজন সভাপতির যোগ্যতা কি? সভাপতির কাজ কি? সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কেমন? সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আদলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে শিক্ষার মান বাড়বে। 

সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও কমিটির বিষয়ে যেভাবে পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপন  জারি ও স্থগিত হচ্ছে তাতে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা রীতিমত হতাশ। যেখানে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা,সেখানে কেনো বৃটিশ আমলের কমিটি প্রথাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার এবং শিক্ষা বোর্ডগুলো?

শিক্ষা বোর্ডগুলো ৬ মাসের কমিটির জন্যও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কমিটির অনুমোদন দেন। অনেক ছোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়তি টাকায় কমিটির অনুমোদন নেওয়া রীতিমতো কষ্টকর।

সরকার যেখানে শতভাগ বেতন দিচ্ছে, সকল নিয়োগ সরকার দিচ্ছে সেখানে কমিটি/ গভর্ণিং বডির সভাপতি নির্বাচনে এতো টালবাহানা কেনো? কমিটি কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার গুনগত মান বৃদ্ধিতে,সুষ্ঠু শিক্ষা প্রদানে,শিক্ষকদের প্রতি ভূমিকা রেখেছে? যেখানে দলীয় পরিচয়ে অনেক অর্ধ শিক্ষিত লোক উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষকদের উপর নজরধারী ও খবরধারী করে। বৃটিশ এ প্রথার অবসান চায় শিক্ষক সমাজ। 

বিন-ই-আমিন 

সভাপতি 

মাধ্যমিক শিক্ষক ফোরাম নলছিটি। 

 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.