এইমাত্র পাওয়া

চাকরিতে ৬০-এ অবসর, কিন্তু নেতৃত্বে ৮০-ও তরুণ—এই কু-ব্যবস্থার শেষ কোথায়?

।। এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান।। 

বাংলাদেশে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ৫৯ কিংবা ৬০ বছর বয়সে অবসরের নিয়মটি বহুদিন ধরেই চালু রয়েছে। যুক্তিও ছিল সহজ—একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে, তাই দায়িত্ব পালনেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।

রাষ্ট্র চাই যে জনসেবার চূড়ান্ত পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীরা হোক সর্বোচ্চ সক্ষম, দক্ষ ও নির্বাচিত। তাই ৬০ বছরে অবসর অস্বাভাবিক নয়; বরং অনেক দেশে এটি আরও কম। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো—যখন দেশের সাধারণ কর্মচারীর ক্ষেত্রে শারীরিক সামর্থ্য কমে যাওয়ার যুক্তিতে অবসর বাধ্যতামূলক, তখন ঠিক একই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বে বয়স যেন উল্টো আশীর্বাদ! সেখানে ৭৫ বছর ‘উজ্জ্বল অভিজ্ঞতা’, ৮০ বছর ‘পরীক্ষিত নেতৃত্ব’, আর ৮৫ বছর ‘জনদরদী নেতা’—এই অদ্ভুত তকমা জুড়ে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন জাগে, জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যাদের ওপর, তাদের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমা কেন নেই?

চাকরিজীবী অবসরে গেলেও দেশ চলে, কিন্তু রাজনীতিবিদ অবসরে গেলে কি দেশ থেমে যাবে?
স্পষ্টতই না। তাহলে এই দুই নীতির ফারাক কেন? এই বৈষম্যই কি আজকের রাজনৈতিক অচলাবস্থার মূল কারণ নয়?

রাজনীতিতে বয়স মানেই অভিজ্ঞতা—এ ধারণা কি আদৌ যৌক্তিক? আমাদের দেশে একটি প্রচলিত ধারণা আছে—রাজনীতিবিদ যত বয়স্ক, তিনি নাকি তত বেশি ‘অভিজ্ঞ’। কিন্তু অভিজ্ঞতার মানদণ্ড কী?
কোথায় তার পরিমাপ?

অভিজ্ঞতা কি দেশ পরিচালনার সক্ষমতা, নৈতিকতা, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বোঝার দক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত?

নাকি অভিজ্ঞতা মানে দলের ভেতর পঁচিশ বছর ধরে একটি চেয়ারে বসে থাকা, ভক্ত-অনুগত সংগ্রহ, কিংবা ক্ষমতার কাছে থাকা? অভিজ্ঞতা যদি সত্যিই মূল্যবান হয়, তাহলে কেন দেশের হাজার হাজার দক্ষ শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী—যাদের অভিজ্ঞতা দেশের জন্য বহুগুণ বেশি প্রাসঙ্গিক—৬০ বছরেই অবসরে পাঠানো হয়?

কারণ স্পষ্ট: অভিজ্ঞতা যতই থাকুক, বয়স বাড়লে কর্মক্ষমতা কমে। সেই নিয়ম যদি সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তবে জাতির দিকনির্ধারক নেতৃত্ব হিসেবে দাঁড়ানো একজন ৭৫–৮০ বছরের মানুষের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়তেই পারে।

আজ প্রযুক্তি, তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক অর্থনীতি, ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। এই যুগের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রয়োজন দ্রুততা, সৃজনশীলতা, সমকালীন জ্ঞান, পরিবর্তন গ্রহণের মানসিকতা। উন্নত দেশগুলোতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। তরুণ, মেধাবী, প্রযুক্তিবান্ধব নেতাদের আগমন ঘটছে অব্যাহতভাবে। কিন্তু আমাদের দেশে বয়স যত বাড়ে, ততই নেতা ‘পরীক্ষিত’ বলে বর্ণনা দেওয়া হয়।

কেউ কেউ অর্ধেক পথ হুইলচেয়ারে, অর্ধেক পথ অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে চললেও দল তাদের বাদ দিতে চায় না।

কারণ নেতৃত্বে বুড়ো বয়স ক্ষমতার প্রতীক, অভিজ্ঞতার নয়—এটা অদ্ভুত রাজনৈতিক সংস্কৃতির ফল। একজন বয়স্ক মানুষ, যিনি দৈনন্দিন জীবনযাপনেই হয়তো সীমাবদ্ধতায় ভুগছেন, তিনি কীভাবে জটিল রাষ্ট্র পরিচালনায় আগের মতো শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুত থাকতে পারেন?

চাকরিতে যখন ৬০ মানেই অবসর… সাধারণ সরকারি চাকরিতে ৫৯–৬০ বছরের পর আর দায়িত্বে রাখা হয় না কারণ— জরুরি সিদ্ধান্তে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা কমে যায়। নতুন প্রযুক্তি, নতুন ধারণা শিখে খাপ খাওয়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যগত সমস্যা বাড়ে, ঝুঁকি তৈরি হয়। পরিবর্তমান বিশ্বকে বোঝার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন হয়। নতুন প্রজন্মের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

রাষ্ট্র এই যুক্তিগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। তাই অবসর বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই যুক্তিগুলো কি রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়? দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কি কম ভারী? একটি ভুল সিদ্ধান্ত কি লক্ষ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করে না?

 আমাদের দেশে ৭০–৮০ বছরের রাজনীতিবিদেরা শুধু দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকই নন—তারা মন্ত্রণালয়, কমিটি, নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু দখল করে রাখেন।

বয়সোচিত সীমাবদ্ধতা ও পরিবর্তন-বিমুখ মানসিকতার কারণে নেতৃত্বে একটি গভীর প্রজন্মগত দূরত্ব তৈরি হয়। তরুণ প্রজন্মের ভাবনা, শিক্ষা, প্রযুক্তিবোধ, কর্মসংস্থানের বাস্তবতা—এসবের সঙ্গে অনেক প্রবীণ নেতার দৃষ্টিভঙ্গির মিল থাকে না; সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এ ব্যবধান আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এর ফলে আধুনিক, সময়োপযোগী পরিকল্পনার ঘাটতি দেখা দেয়। আজকের ডিজিটাল অর্থনীতি, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, স্পেস টেকনোলজি, ব্লকচেইন বা এআই—এসব বিষয়ে ৭৫ বা ৮০ বছরের একজন নেতার স্বাভাবিকভাবেই সীমিত ধারণা থাকে, চিন্তায় এসে পড়ে পুরোনো সময়ের ধ্যান-ধারণা ও সেকেলে নীতি।

এই নেতৃত্ব স্থবিরতায় দলের সাংগঠনিক কাঠামোও ক্রমে জীর্ণ হয়ে পড়ে। যেখানে নেতৃত্বে পরিবর্তন নেই, সেখানে দলে নতুন মেধা, উদ্যম, ধারণা—কোনোটিই ঢোকে না; বরং সিনিয়রিটির কড়াকড়ি আরও কঠোর হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি বয়স-অতিক্রান্ত নেতাদের আশপাশে কর্মীরা ধীরে ধীরে সুবিধাবাদী হয়ে ওঠে—তরুণ ও যোগ্যরা উপরে ওঠার সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে, দল থেকে সরে যায় বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি যখন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন রাজনীতিতে গড়ে ওঠে ‘আজীবন ক্ষমতা’ সংস্কৃতি—যেখানে নেতৃত্ব বদলের কোনো স্বাভাবিক পথ থাকে না। এই প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর; কারণ এতে ক্ষমতা মানুষকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে, নীতিকেন্দ্রিক নয়। দীর্ঘ মেয়াদে এটি রাষ্ট্রের উদ্ভাবনী শক্তি, প্রশাসনের গতি ও সামাজিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

রাজনীতিতে অবসরের ধারণা না থাকায় অনেক নেতার মধ্যে ‘আমি ছাড়া দেশ চলবে না’—এমন এক স্বৈরাচারী মনোভাব তৈরি হয়।

বয়স যত বাড়ে, ততই অনেকের মধ্যে ক্ষমতার লোভ আরও পুঞ্জীভূত হতে দেখা যায়। তারা মনে করেন, ক্ষমতা ছাড়া সমাজে তাদের গুরুত্ব কমে যাবে—এ ভয়ে আসন আঁকড়ে ধরে রাখেন বছরের পর বছর। ফলে তারা নতুন প্রজন্মকে জায়গা দিতে চান না, নেতৃত্বের পরিবর্তনকে হুমকি মনে করেন। বয়সের সাথে সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা কমলেও ক্ষমতার প্রতি আসক্তি কমে না; বরং ব্যক্তিগত স্বার্থ, প্রশংসা-নির্ভরতা ও ঘনিষ্ঠ সুবিধাবাদীদের প্রভাবে এটি আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এক পদে থাকার এ প্রবণতা দল, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র—সবকিছুকেই স্থবির করে তোলে।

তাঁরা দলকে নিজের বাড়ির সম্পত্তি মনে করেন; চান মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নেতৃত্ব ধরে রাখতে।এমন প্রবণতা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে, দলীয় রাজনীতিকে পরিবারকেন্দ্রিক করে তোলে, আর দেশের প্রশাসনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশ্বের অনেক দেশে রাজনীতিতে বয়সসীমা আছে অনেক দেশেই নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বয়সসীমা বা স্বাস্থ্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন— জাপানে দলের প্রধানদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা আছে। সিঙ্গাপুরে মন্ত্রীদের জন্য বয়সসীমা কার্যকর করা হয় কড়া ভাবে। জার্মানি, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্সে তরুণ নেতৃত্বই বেশি অংশগ্রহণ করে, এবং তা দলীয় নিয়ম দ্বারা উৎসাহিত।

এসব দেশ বুঝেছে—নেতৃত্ব তরুণ হলেও রাষ্ট্র দুর্বল হয় না; বরং উদ্ভাবনী শক্তি বেড়ে যায়।

বাংলাদেশে নেতৃত্বে বয়সসীমা প্রয়োজন, কারণ এটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিশ্চিত করে, একই সঙ্গে দেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নীতি-নির্ধারণে অংশগ্রহণের পথ খুলে দেয়। বয়স-অতিক্রান্ত নেতৃত্বে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ঝুঁকি বাড়ে, যেখানে বয়সসীমা জবাবদিহি ও সততা বজায় রাখতে সহায়ক। পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্ব আসলে দল ও রাজনীতিতে নতুন চিন্তা, উদ্ভাবন ও জনমুখী উদ্যোগের প্রবাহ তৈরি হয়। সবচেয়ে বড় কথা—দল বদলালেও নেতৃত্ব না বদলানোর যে স্থবিরতা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে, বয়সসীমা সেই স্থায়ী ক্ষমতাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ভেঙে গণতন্ত্রকে সক্রিয় ও সময়োপযোগী করে তোলে।

৬০-এ অবসর—৮০তে ক্ষমতা: এ বৈষম্য জনগণের প্রতি অন্যায় সরকারি কর্মচারীকে ৬০ বছরে ‘অযোগ্য’ বলে অবসর দেওয়া হয়, কিন্তু রাজনীতিবিদ ৮০ বছরেও দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক করেন—এটা সম্পূর্ণ অসঙ্গত।

একজন চাকরিজীবী যদি বয়োজ্যেষ্ঠ বয়সে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম না হন, তবে একজন মন্ত্রী কীভাবে একই সীমাবদ্ধতায় সক্ষম হবেন?

এ প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্র কখনো দেয় না। কারণ রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত আসে গণতান্ত্রিক ভাবে নয়; আসে স্বার্থের ভিত্তিতে। সেই স্বার্থ বয়স্ক নেতাদের যতদিন ক্ষমতায় রাখা যায়, ততদিনই নিরাপদ।

রাজনীতিতে অবসরের বিধান: এখনই সময় অনেক দেশে যেমন বিচারপতি ও সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে অবসরের বয়স নির্দিষ্ট, বাংলাদেশেও রাজনৈতিক নেতৃত্বে বয়সসীমা নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেমন— এমপি হতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর। মন্ত্রী হতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৭ বছর। দলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক হওয়ার বয়সসীমা ৭০ বছর। যেকোনো পদে থাকা ১০ বছর বা ২ মেয়াদের বেশি নয়।

এগুলো বাস্তবায়ন হলে রাজনীতি হবে চঞ্চল, গতিশীল ও সৃজনশীল।৬০ বছর বয়স—নতুন স্বপ্নের বয়স নয়, মূল্যায়নের সময় ৬০ বছর বয়সে একজন মানুষ তার জীবনের অনেক কিছুই দেখেছেন, বুঝেছেন, শিখেছেন। তাই এ বয়সে তাঁর দায়িত্ব হওয়া উচিত— সমাজে জ্ঞান বিতরণ নৈতিকতা জাগানো তরুণদের পথ দেখানো ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনকে সমৃদ্ধ করা।

এ সময়ে যদি কেউ ক্ষমতার জন্য লড়াই করেন, যদি পদ-পদবি নিয়ে দৌড়ান, তবে তা সম্মানের নয়; বরং নীতিহীনতার পরিচায়ক। আজ আমাদের দেশে দেখা যায়—সরকারি চাকরি অবসরের পর অনেকেই দলীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, স্বার্থসিদ্ধির জন্য দলে যোগ দেন, শুধু এমপি/মন্ত্রী হওয়ার আশায় নিজেদের নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দেন।

এ দৃশ্য কেবল লজ্জার নয়, এটি বিপজ্জনকও।নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা—বয়স নয়, বিবেক দেশের নেতৃত্ব দরকার এমন মানুষ, যারা— নীতি ও আদর্শে দৃঢ় সত্য বলার সাহস রাখেন মানুষের সেবা করার মনোভাব রাখেন আধুনিক সময়ে অভিযোজন সক্ষম নিজের ভুল স্বীকার করতে পারেন ক্ষমতার জন্য নয়, দেশের জন্য রাজনীতি করেন।

এগুলো কোনো বয়সের সঙ্গে বাঁধা নয়, কিন্তু বয়সসীমা থাকলে এই মূল্যবোধগুলো বিকশিত হওয়ার সুযোগ বেশি।

কু-ব্যবস্থার শেষ কোথায়? রাজনীতিতে যখন অবসরের সংস্কৃতি তৈরি হবে, তখন— দলীয় রাজনীতি হবে স্বাস্থ্যকর তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে দেশ পাবে গতিশীল ভবিষ্যৎ দুর্নীতি কমবে চরিত্রবান, নীতিবান মানুষ রাজনীতিতে আগ্রহী হবে স্বার্থের পরিবর্তে আদর্শ জায়গা করে নেবে।

কিন্তু যতদিন ৮০ বছরের মানুষকে তরুণ নেতা বলা হবে, যতদিন রাজনীতি ক্ষমতার হাতিয়ার থাকবে, যতদিন দল নিজেরাই নিজেদের ‘আজীবন নেতায়’ রূপান্তর করবে—ততদিন এই কু-ব্যবস্থার শেষ হবে না। আমাদের প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতির মৌলিক পরিবর্তন—যেখানে রাজনীতি হবে নীতির, আদর্শের, দেশপ্রেমের; ব্যক্তিপূজার বা বয়সসীমাহীন ক্ষমতার নয়।

 শেষ কথা একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হলো—যখন অভিজ্ঞতার নামে বয়সকে আশীর্বাদ করা হয়, আর তরুণ ও যোগ্যদের অযোগ্য ভাবা হয়।
বাংলাদেশ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যেখানে নেতৃত্বে সময় এসেছে বড় পরিবর্তনের।

রাজনীতিতে বয়সসীমা ও অবসরের নীতি বাস্তবায়ন শুধু একটি সংস্কার নয়; এটি একটি দেশকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আমাদের স্বপ্ন—নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ। যেখানে ৬০ বছরের পর মানুষ অবসরে গিয়ে শান্তিতে বসবাস করবেন, আর দেশ চালাবেন সর্বোচ্চ সক্ষম, সর্বোচ্চ নৈতিকতা সম্পন্ন, আধুনিক চিন্তার মানুষ। সেই দিনই আমরা বলতে পারব—
চাকরিতে ৬০-এ অবসর, নেতৃত্বে ৮০-ও তরুণ—এই কু-ব্যবস্থার শেষ হয়েছে। 

লেখা: শিক্ষক ও গবেষক। 

শিক্ষাবার্তা /এ/২০ /১১/২০২৫

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading