নিউজ ডেস্ক।।
নরসিংদীর শিবপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্রথম দিন ছিল গতকাল সোমবার। নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনটি পার হলেও উঠেছে একটি প্রশ্ন– এ খাবার সরবরাহ করল কে? সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকরা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা– কেউই জানেন না খাবারগুলো বিদ্যালয়ে কে পাঠাল।
শিবপুর উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। মোট শিক্ষার্থী ২৩ হাজার ৮৯৩ জন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে গত রোববার শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেন সোমবার স্কুল ফিডিংয়ের মাধ্যমে তাদের খাবার দেওয়া হবে। ফলে গতকাল প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে ছিল, তারা খাবার পাবে।
কিন্তু গতকাল খাবার উপজেলার সব বিদ্যালয় পায়নি। কিছু বিদ্যালয় পেলেও যথাসময়ে পায়নি। বিদ্যালয়গুলোতে দুটি শিফটে ক্লাস নেওয়া হলেও খাবার দেওয়া হয়েছে দুপুরের পর। ফলে সকালের শিফটের শিশু শ্রেণি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা খাবার পায়নি। একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, খাবার না পেয়ে শিশুরা খুব মন খারাপ করেছে। এ জন্য শিক্ষকরাও ব্যথিত হয়েছেন। তারা শিশুদের কোনো জবাব দিতে পারেননি।
গতকালের মেনুতে ছিল ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত দুধ এবং ২টি বনরুটি। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইয়াসমিন শিবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার বিতরণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবিরুল ইসলামও ছিলেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পত্রের মাধ্যমে তিনি শিবপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার বিতরণের তথ্য জানতে পারেন। পরে তা বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের জানিয়ে দেন। একাধিক শিক্ষক জানান, প্যাকেটে করে খাবার তাদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। যারা খাবার নিয়ে আসেন তারা বলেছেন, ঠিকাদারের লোকজন পরে এসে তাদের (শিক্ষক) সঙ্গে কথা বলবেন।
শিবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদুর রহমান খান জানান, তাঁর বিদ্যালয়ে দুটি আইটেমের মধ্যে একটি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেরিতে সরবরাহ করায় সকালের শিফটের শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়া যায়নি। খাবারও দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনের চেয়ে ১০ শতাংশ কম।
মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া উত্তরপারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক মানিক মিয়া জানান, আমার সন্তান শুধু রুটি পেয়েছে।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান, প্রথম শিফটের শিশু শ্রেণি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা খাবার পায়নি। দ্বিতীয় শিফটের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিকেল ৩টায় দুটি খাবারের মধ্যে একটি পেয়েছে।
দুলালপুর ইউনিয়নের সাতপাইকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান ও গড়বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক জানান, তাদের ইউনিয়নে কোনো বিদ্যালয়েই খাবার দেওয়া হয়নি। এ জন্য তাদের বিব্রত হতে হয়েছে।
শিবপুর উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি হানিফ মিয়া জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সঙ্গে কারা জড়িত, আমরা তা জানি না। আমার স্কুলে যে লোক খাবার দিয়ে গেছে তাঁকেও আমি চিনি না। প্যাকেটজাত দুধ দিয়ে যায় প্রাণ কোম্পানির গাড়ি। তিনি বলেন, দুই দিনের খাবার একসঙ্গে দিয়েছে। ফলে আজ (গতকাল) সবাইকে খাবার দেওয়া গেছে। কিন্তু তারা ১০ শতাংশ খাবার কম দিয়েছে। ফলে মঙ্গলবার খাবার সব শিশুকে দেওয়া যাবে না।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবিরুল ইসলাম বলেন, নিয়ম হলো, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার যোগাযোগ ও সমন্বয় করে খাবার বিতরণ করবেন। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো ঠিকাদার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তিনি আরও বলেন, সোমবার প্রথম দিনে খাবার বিতরণে অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা ছিল।
শিবপুরের ইউএনও ফারজানা ইয়াসমিন জানান, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার কে দিচ্ছে আমি জানি না। এ ব্যাপারে শিক্ষা কর্মকর্তাকে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
