এইমাত্র পাওয়া

বেসরকারি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরাও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে: হাইকোর্ট

ঢাকাঃ শুধু সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে—প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এমন সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৪ নভেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন। এর ফলে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিতে পারবে।

জানা যায়, গত ১৭ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এক স্মারকে জানায়—শুধু সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কেরানীগঞ্জ পাবলিক ল্যাবরেটরি স্কুলের পরিচালক মো. ফারুক হোসেনসহ ৪২ জন শিক্ষক ও অভিভাবক রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানিতে আদালত গত ২ সেপ্টেম্বর উক্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।

চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেয়, ২০০৮ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালার আলোকে সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে।

রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নিয়াজ মোর্শেদ। তিনি বলেন, এই রায়ের ফলে এখন থেকে সব বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, রেজিস্টার্ড কিন্ডারগার্টেন, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, হাইকোর্টের রায়ে বেসরকারি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের কাছে আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে বৃত্তি দেওয়া হতো। করোনা মহামারির সময় পরীক্ষাটি বন্ধ থাকলেও ২০২২ সালে পুনরায় শুরু হয়। ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষা আগামী ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই রায়ের ফলে সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ উন্মুক্ত হলো—যা শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলে মনে করছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৪/১১/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.