এইমাত্র পাওয়া

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে অভিভাবকদের বিক্ষোভ

পিরোজপুর: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ২০২ নং জানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশুতোষ সমাদ্দারের অপসারণ পূর্বক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২ নভেম্বর) সকাল ৯টায় উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড জানখালী গ্রামের ওই বিদ্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে এ কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় স্থানীয় সমাজ সেবক ওই বিদ্যালয়ের জমিদাতা আশীষ কুমার বিশ্বাস এ সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সমাজ সেবক মো. ইউনুস হাওলাদার, অভিভাবক রিতা রানী বিশ্বাস, মাহাবুব হাওলাদার, রফিকুল তালুকদার, মনিকা রানী মিস্ত্রী, শ্যামলী রানী, স্থানীয় বাসিন্দা রবিন্দ্রনাথ বল, হোসেন আলী তালুকদার প্রমুখ।

এদিকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ না করলেও এ বিদ্যালয়ের ৪ নারী শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশুতোষ সমাদ্দারের অপসারণ পূর্বক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের জমিদাতা আশীষ কুমার বিশ্বাস বলেন, আশুতোষ সমাদ্দার এখানে যোগদানের পর থেকেই সব কিছুতে ব্যাপকভাবে অনিয়ম করে যাচ্ছেন। এরকম শিক্ষক কোন স্কুলে থাকেলে, সে স্কুলের পরিবেশ ও শিক্ষার মান শেষ।

২ নং উত্তর বড় মাছুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মো. ইউনুস হাওলাদার বলেন, এর আগে আশুতোষ সমাদ্দার তার স্কুলে ছিলেন। তৎকালীন সময় তার বিরুদ্ধে ১০টি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখানে বদলী করেন। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আশুতোষ সমাদ্দার যেখানে যাবেন, সে স্কুলই হবে বিপদজনক।

অভিভাবক রিতা রানী বিশ্বাস চিৎকার করে বলেন, শিক্ষক নামের কলঙ্ক আশুতোষ সমাদ্দার মেয়ে শিশুদের সঙ্গে অসৌজন্য মূলক আচারন করেন। তার কঠিন বিচার হওয়া উচিৎ।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বিপাশা রানী, নাজমা আক্তার, ঝর্ণা রানী হালদার বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশুতোষ সমাদ্দার তাদের সঙ্গে অসহনীয় অচারন করেন। এ রকম শিক্ষকের কাছে আমরা নিরাপদ নই।

এ ব্যাপরে অভিযুক্ত আশুতোষ সমাদ্দার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের জমিদাতা আশীষ কুমার বিশ্বাস ভবনের ছাদে সুপারি শুকাতে চেয়েছে। আমি সুযোগ দেইনি, তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, সুপারি শুকানো তো দুরের কথা জমিদাতা আশীষ কুমার বিশ্বাস গত ৩ বছর যাবৎ বিদ্যালয়ের কোন কাজে জড়িত নন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনসুর হেলাল বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য- গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর’ ২৫ এই শিক্ষক আশুতোষ সমাদ্দারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় “ছাত্রদের দিয়ে সুপারি পাড়ানোর অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০২/১১/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.