নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেট নোটিফিকেশনের বিরুদ্ধে একযোগে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন আইনজীবী। গত ২৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত গেজেটটিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও গভার্নিং বডির সদস্যপদে শুধুমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কলেজের কর্মকর্তা, নির্দিষ্ট সরকারি/আধা-সরকারি কর্মকর্তা এবং চিকিৎসকদের যোগ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক বিচারক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই একপেশে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনজীবীরা এই লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন।
নোটিশটি প্রেরণ করেছেন অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া, যিনি লেক্সজোন ল’ চেম্বারের প্রধান এবং সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। তাঁর সঙ্গে নোটিশে স্বাক্ষরকারী অন্য চারজন হলেন অ্যাডভোকেট মো. রোকনুজ্জামান, মো. আল মানিক, মো. আবু শাহেদ ও জামিয়া আক্তার — সকলেই সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী।
নোটিশে বলা হয়েছে, গেজেটটি সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। এই অনুচ্ছেদগুলোতে পেশার ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান গেজেটে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্যান্য যোগ্য পেশাজীবীদের বঞ্চিত করা হয়েছে, যা অনৈতিক ও অসাংবিধানিক।
আইনজীবীরা আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক বিচারক, আইনজীবী ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসন ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। এই পেশাজীবীদের হঠাৎ করে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু তাঁদের প্রতি অবিচার নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।
নোটিশে বলা হয়, শুধু সরকারি কর্মকর্তা কিংবা চিকিৎসকদের অগ্রাধিকার দেওয়া মানেই শিক্ষা পরিচালনায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। এতে স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক নেতৃত্ব, বিভিন্ন পেশার অভিজ্ঞতা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই প্রেক্ষাপটে আইনজীবীরা সরকারের প্রতি চার দফা দাবি উত্থাপন করেন:
১) গেজেটটি দ্রুত পর্যালোচনা ও সংশোধন করা,
২) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক বিচারক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা,
৩) পরিচালনা কমিটি ও গভার্নিং বডিকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাখা এবং
৪) সকল যোগ্য প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
নোটিশে আরও বলা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
