মানিকগঞ্জঃ নিজ আইডি ব্যবহার করে ফেসবুক একাধিক শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব এবং ইভটিজিং করার অভিযোগে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খানকে বান্দরবানে বদলি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান। তিনি বলেন, ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগটি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. আব্দুল্লাহ বিন শফিককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বদলির বিষয়ে জানতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত রিপোর্টে সত্যতা পাওয়ার পর আমি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছি। তদন্ত চলমান ছিল।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম হান্নান বলেন, তার এমন কাজের জন্য যে কোনো সময় একটা অঘটন ঘটতে পারে। বিষয়টি আগেই জানতে পেরে, তদন্ত রিপোর্ট আসার আগেই বদলির জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলাম। তখন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জেলা প্রশাসককে জানালে, জেলা প্রশাসক সঙ্গে মহাপরিচালককে বিষয়টি জানান। তাকে সেখান থেকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বদলির চিঠি পেয়েছি।
এর আগে গত ১৩ জুলাই ও ১৫ জুলাই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলে শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসানের কাছে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দুজন অভিযোগ অভিভাবক।
ওই অভিযোগ তদন্তে গঠিত হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. আব্দুল্লাহ বিন শফিককে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়। এরপর গত ১৭ জুলাই এ ঘটনায় অনলাইনে ‘‘ছাত্রী ও নারী সহকর্মীকে কুপ্রস্তাব, শিক্ষা কর্মকর্তা বললেন ‘ইয়ার্কি করেছি’।’’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মেয়ে সিংগাইর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বয়স ১৩ বছর। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মেয়েদের মোবাইল নম্বরে ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে নানা সময় আপত্তিকর বার্তা ও কুপ্রস্তাব পাঠান। মেয়েদের কাছ থেকে তারা বিষয়টি জানতে পারেন।
তাছাড়া উপজেলার এক নারী কর্মকর্তা বলেন, মনিরুজ্জামান খান এ ধরনের বাজে আচরণ আমার সঙ্গেও করেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান প্রতিবেদকের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেছিলেন। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান তিনি।
ইতোপূর্বে এক নারী কর্মকর্তার সাথে বাজে আচরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘ওটা ইয়ার্কি-ফাইজলামি করেছিলাম। পরে সেটা সংশোধন করে ফেলছি।’
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৫/০৭/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
