দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারালেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রাখী চক্রবর্তী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বিভাগীয় মামলায় আনীত ‘অসদাচরণ ও দুর্নীতি’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রাখী চক্রবর্তীকে  ‘চাকরি হতে অপসারণ’ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

গত ২ জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মোঃ মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,  যেহেতু, জনাব রাখী চক্রবর্তী, উপজেলা শিক্ষা অফিসার (সাময়িক বরখাস্তকৃত), গোদাগাড়ী, রাজশাহী (সাবেক থানা শিক্ষা অফিসার, বোয়ালিয়া, রাজশাহী)-এর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) ও ৩(ঘ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি’ এর অভিযোগে ২৭ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে বিভাগীয় মামলা রুজুপূর্বক অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রেরণ করে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়; এবং যেহেতু, অভিযুক্ত কর্মকর্তা জনাব রাখী চক্রবর্তী লিখিত জবাব দাখিলপূর্বক ব্যক্তিগত শুনানি প্রার্থনা করলে তার ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং শুনানিতে প্রদত্ত তার মৌখিক বক্তব্য ও লিখিত জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়; এবং যেহেতু, তদন্ত কর্মকর্তা তার দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত কর্মকর্তা জনাব রাখী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে মতামত ব্যক্ত করেন; এবং যেহেতু, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৪(৩)(গ) অনুযায়ী তাকে ‘চাকরি হতে অপসারণ’ নামীয় গুরুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক কেন তাকে উক্ত দণ্ড আরোপ করা হবেনা, সে বিষয়ে লিখিতভাবে জানানোর জন্য দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হলে তিনি উক্ত নোটিশের জবাব দাখিল করেন; এবং যেহেতু, দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে ‘চাকরি হতে অপসারণ’ নামীয় গুরুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে এ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের সাথে কর্ম কমিশন একমত পোষণ করে মতামত প্রদান করে; সেহেতু, জনাব রাখী চক্রবর্তী, উপজেলা শিক্ষা অফিসার (সাময়িক বরখাস্তকৃত), গোদাগাড়ী, রাজশাহী (সাবেক থানা শিক্ষা অফিসার, বোয়ালিয়া, রাজশাহী)-এর বিরুদ্ধে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় আনীত ‘অসদাচরণ ও দুর্নীতি’ এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযোগের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক সকল বিষয়াদি বিবেচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৪(৩)(গ) মোতাবেক ‘চাকরি হতে অপসারণ’ নামীয় গুরুদণ্ড প্রদান করা হলো। একইসাথে তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জানা গেছে, ২০১৫ সমাপনী বৃত্তির ফল জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের মামলায় ২০১৭ সালে কারাগাভোগ করেন গোদাগাড়ী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাখি চক্রবর্তীকে। 

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৮/০৭/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.