এইমাত্র পাওয়া

৪০তম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রয়োগের আবেদন বঞ্চিত প্রার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ ৪০ তম বিসিএসএ মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন জানিয়েছে ৪০ তম বিসিএস ভাইবা উত্তীর্ণ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।

বুধবার (০২ জুলাই) পিএসসির চেয়ারম্যান বরাবর এই আবেদন করেন তারা। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে ৪০তম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রয়োগ কেন হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে ৩৮তম বিসিএসে কোটা এবং ৪০ তম বিসিএসের পরবর্তী বিসিএসে কোটার প্রয়োগ হলেও ৪০তম বিসিএসে কেন কোটার প্রয়োগ হবে না জানতে চাওয়া হয়েছে। 

৪০ তম বিসিএসএ মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রয়োগের আবেদনে বলা হয়, আমরা ৪০ তম বিসিএস ভাইবা উত্তীর্ণ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।  ৪০ তম বিসিএস এর সার্কুলার প্রকাশিত হয় গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে, অপরদিকে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হয় ০৪ অক্টোবর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে। কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের পূর্বে সার্কুলার প্রকাশিত হলেও ৪০ তম বিসিএসএ কোনো ধরণের কোটা প্রয়োগ করা হয়নি। ৩৮ তম বিসিএস এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের প্রায় ২১(একুশ) মাস পরে অর্থাৎ ৩০ জুন ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে। এখানে ৩৮ তম বিসিএসএ মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রয়োগ করা হলেও ৪০ তম বিসিএসএ কোনো কোটা প্রয়োগ করা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ ৪০তম বিসিএসে কেনো মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রয়োগ হবে না, হাইকোর্টের রুল জারি

আবেদনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৩ জুলাই ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে সরকার পাঁচ শতাংশ কোটা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে বলা হয় ৪ অক্টোবর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন বাতিল । সেহেতু সকল দিক দিয়ে যৌক্তিকভাবে ৪০ তম বিসিএস এ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা কোটা প্রাপ্য হয়। বর্তমান সরকার বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ৪০ তম বিসিএস মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা চরম বৈষম্যের শিকার। এমতাবস্থায় ৪০ তম বিসিএসএ আমরা যে বৈষম্যের শিকার হয়েছি তা নিরসনে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রয়োগ করে পুনরায় রেজাল্ট দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

পিএসসির চেয়ারম্যান বরাবর ৪০ তম বিসিএস ভাইবা উত্তীর্ণ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের পক্ষে লিখিত আবেদন জমা দেন মোঃ শহিদুল ইসলাম। তিনি শিক্ষাবার্তা’কে বলেন,  ৪০ তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে, অন্যদিকে ২০১৮ সালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে কোটা প্রথা বিলুপ্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ৪ অক্টোবর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে। অর্থ্যাৎ কোটা প্রথা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার এক মাসে আগে ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবার ৩৮ তম বিসিএসের চূড়ান্ত  ফলাফল ২০২০ সালে প্রকাশ করা হলেও সেখানে কোটার প্রয়োগ করে পিএসসি। একই সাথে দুই নীতি গ্রহণ করে পিএসসি এখানে ৪০তম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা পুরোপুরি বঞ্চিত হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সরকারের পতন হলেও বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশে আমরা বৈষম্যের শিকার। 

এ বিষয়ে জানতে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তার এস এম মতিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।  

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে  ৪০তম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রয়োগ কেন হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে ৩৮তম বিসিএসে কোটা এবং ৪০ তম বিসিএসের পরবর্তী বিসিএসে কোটার প্রয়োগ হলেও ৪০তম বিসিএসে কেন কোটার প্রয়োগ হবে না জানতে চাওয়া হয়েছে।   বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি দেবাশিষ রয় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিক বেঞ্চ রুলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সচিবসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সাত কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়। রুলের পক্ষে শুনানী করেন এডভোকেট শামিম হায়দার পাটোয়ারি এবং মোঃ মিজানুর রহমান। 

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০২/০৭/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.