২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে ঝিনাইদহের দুই শিক্ষার্থী। ওই দুই শিক্ষার্থীর নাম—অতিথী মাহজাবিন ও সৈয়দা তাজরিন আশরাফী ঋদ্ধি। তারা উভয়ে এবারের পিইসি পরীক্ষায় ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৬০০ পেয়েছে। অতিথী ও ঋদ্ধির এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পুরো ঝিনাইদহবাসী। পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতিথী মাহজাবিন পৌর শহরের আরাপপুর চানপাড়া এলাকার মো. ওয়াজেদ আলী ও শাপলা নাজনীন শিউলী দম্পতির মেয়ে। আর সৈয়দা তাজরিন আশরাফী ঋদ্ধি আরাপপুর সোনালীপাড়া এলাকার মো. আশরাফুজ্জামান ও সাইফা সানজিমা লিপি দম্পতির মেয়ে। তারা উভয়ে এবার ঝিনাইদহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এই পরীক্ষাতে ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৬০০ পেয়ে তারা গৌরবান্বিত এই ফল অর্জন করে। অতিথী ও ঋদ্ধি জানায়, তাদের উভয়েরই পরীক্ষায় ভালো ফলের আশা ছিল। বাবা-মায়ের নজরদারি আর শিক্ষকদের দিক-নির্দেশনা মেনে চলায় তারা অবিশ্বাস্য এই সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে অতিথী বড় হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আর ঋদ্ধি ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। অতিথী মাহজাবিনের বাবা মো. ওয়াজেদ আলী জানান, কোচিং কিংবা প্রাইভেট কোনোটাতেই তেমন গুরুত্ব দিত না অতিথী। স্কুল থেকে ফিরে রাতে অতিথীর পড়ার বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করতাম। তবে বেশি গুরুত্ব দিতাম মূল বইয়ের প্রতি।
আর অতিথীর পড়ার বিষয় নিয়ে কখনো আমাদের চাপ দিতে হয়নি। ঝিনাইদহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমুল ইসলাম জানান, অতিথী ও ঋদ্ধি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের থেকে একটু আলাদা। তারা যদি কোনো বিষয় বুঝতে না পারত তাহলে আমাদের কাছে এসে সেটি নিয়ে আলোচনা করত, যা সাধারণত অন্যদের মধ্যে দেখা যায় না। এ দিকে, ঝিনাইদহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লক্ষ্মী রানী পোদ্দার বলেন, ‘অতিথী ও ঋদ্ধির এই ফল স্কুলের সুনাম আরও বৃদ্ধি করেছে। আমরা তাদের ভেতরে আলাদা একটা প্রতিভা লক্ষ করি।
পরে সে অনুযায়ী তাদের দিক-নির্দেশনা দেই। তাদের সাফল্যের অন্যতম একটি দিক হলো পরীক্ষায় সুন্দর হাতের লেখা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
