নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেয়ায় এক শিক্ষক নিবন্ধনধারীর নিবন্ধন সনদ বাতিল করেছেন বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ)। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা চলাকালীন সপ্তদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায়ও অংশ নিয়েছিলেন । অনার্স ডিগ্রি অর্জন না করে পরীক্ষায় অংশ নেয়ায় তার নিবন্ধন সনদ বাতিল করা হয়েছে। বাতিলকৃত শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্রটি কোথাও ব্যবহার করা হলে তা ফৌজদারী অপরাধ বলে গণ্য হবে বলে জানায় এনটিআরসিএ।
মঙ্গলবার (২০ মে) বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সহকারী পরিচালক (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন-১) ফিরোজ আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, সপ্তদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিলো ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ফেব্রুয়ারি আবেদনের শেষ তারিখ। অপরদিকে ইমদাদুল হকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয় ১০ মার্চ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সপ্তদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ৪০৫০০২৭১৯ রোল নম্বরধারী ইমদাদুল হক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে ২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষে চার বছরের অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন এবং এই শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার করে সপ্তদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক পদে অংশগ্রহণ করে নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র লাভ করেন।
সপ্তদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ৬ (ক) নম্বর ক্রমিকে উল্লেখ রয়েছে ‘শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে পরীক্ষায় অবতীর্ণ কোনো প্রার্থীর আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।’ এই বিজ্ঞপ্তির ৩ (খ) নম্বর ক্রমিকে উল্লেখ রয়েছে অনলাইনে এ আবেদনপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ও সময় ছিলো ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ জারি করা বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক একাডেমিক কাউন্সিল-সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে ইতিহাস বিভাগের ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের বিএ (অনার্স) ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল ১০ মার্চ প্রকাশিত হয়। ইমদাদুল হক সপ্তদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নির্ধারিত সময়ে ইতিহাস বিষয়ে চার বছরের অনার্স ডিগ্রি অর্জন না করেও সপ্তদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক পদে অংশগ্রহণ করেন এবং এই নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র অর্জন করেন।
অনার্স পরীক্ষায় উপস্থিত প্রার্থী ইমদাদুল হক ভুল তথ্য-ফল দিয়ে নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র অর্জনের অভিযোগ ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬ (সংশোধিত)’ এর ১২(২) বিধি অনুযায়ী তদন্ত করা হয়। এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
এমন পরিস্থিতিতে ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬ (সংশোধিত) এর ১২(২) বিধি অনুযায়ী ইমদাদুল হকের ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক পদের শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্রটি যার সিরিয়াল নম্বর ১০৫৫৭৮৯২ বাতিল করা হলো।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২০/০৫/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
