মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা মানছেন না সুপার-অধ্যক্ষরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ এনটিআরসিএ সনদ ও নিয়োগের সুপারিশপত্র জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় ইনডেক্স কর্তনকৃত শিক্ষক/কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিলেও তা মানছেন না সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্রধানরা। এবার ইনডেক্স কর্তনকৃত শিক্ষক/কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের চূড়ান্ত (৩য় দফা) নির্দেশনা দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। চূড়ান্ত এই নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এমপিও স্থগিত করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ২য় দফা নির্দেশনায় এমপিও স্থগিতের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সেই নির্দেশনার কর্ণপাত করেনি কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান। 

বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এইচ. এম. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়ে সাত কর্ম দিবস বেঁধে দেওয়া হয়। 

এর আগে গত গত ৭ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে ভুয়া নিয়োগপত্র ও এনটিআরসিএর সনদ জাল করে চাকরি নেওয়া এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার প্রায় ১২০ জন শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর কর্তন করা হলেও ভুয়া এই শিক্ষকদের উত্তোলিত বেতন-ভাতাসহ সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করার নির্দেশনার পরেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ১৫ কর্মদিসব সময় বেধে দিয়েছিল মাদ্রাসা অধিদপ্তর। সেই নির্দেশনা না মানলে এবার ৭ কর্মদিবস বেঁধে দিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করলো অধিদপ্তর। 

আরও পড়ুনঃ অর্থ আত্মসাৎ: জগন্নাথপুরের সেই অধ্যক্ষ মঈনুলের এমপিও স্থগিত

বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চূড়ান্ত নির্দেশনায় বলা হয়, এনটিআরসিএর জাল ও ভুয়া সনদের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হওয়ায় সূত্রোক্ত স্মারকে জাল ও ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে উক্ত শিক্ষকদের ইনডেক্স কর্তন করা হয়। উল্লেখ্য সূত্রোক্ত স্মারকে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণকে ইনডেক্স কর্তনকৃত শিক্ষকবৃন্দ কর্তৃক উত্তোলিত বেতন-ভাতাসহ সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়েরপূর্বক প্রমাণকসহ অধিদপ্তরে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। উক্ত নির্দেশনা প্রদান সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠান প্রধানগন কোনরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পরবর্তীতে সূত্রোক্ত স্মারক ১ অনুযায়ী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে উত্তোলিত বেতন-ভাতাসহ সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে জমাদান এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করে প্রমাণকসহ অধিদপ্তরে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলেও এখন পর্যন্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমাদানপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি মর্মে প্রতীয়মান হয়।

আরও পড়ুনঃ এনটিআরসিএ সনদ ও সুপারিশপত্র জাল, ইনডেক্স কর্তন হলো ১৫ শিক্ষকের

এমতাবস্থায়, উত্তোলিত বেতন-ভাতাসহ সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে জমাদান এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়েরপূর্বক প্রমাণকসহ অধিদপ্তরে আগামী ০৭ কার্যদিবসের মধ্যে অবহিত করার জন্য চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হলো। অন্যথায় স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ যথাযথ দায়িত্ব পালনে অবজ্ঞা ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করায় এমপিও সাময়িক স্থগিতসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ জাল সনদে চাকরি: ৩৯ শিক্ষক ও ২ কর্মচারীর এমপিও বাতিল

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২০/০২/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.