‘ব্রিফকেস পেয়ে আ.লীগপন্থী শিক্ষা ক্যাডারদের পদায়ন দিচ্ছেন যুগ্মসচিব নুরুজ্জামান’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ‘ব্রিফকেস’ পেয়ে শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সব পদে পদায়ন দিচ্ছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ নুরুজ্জামান এমনটাই অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভুঁইয়া। 

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আব্দুল গনি রোডে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রত্যাহারের দাবিতে  শিক্ষা ভবন ঘেরাও কর্মসূচীতে এই অভিযোগ করেন তিনি। 

অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভুঁইয়া বলেন, “মাউশির ডিজি পদে পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক ড. এহতেশাম উল হক বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ অনুচর। তার হাত ধরেই বরিশাল বিএম কলেজের রসায়ন বিভাগ থেকে বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ পদে পদায়ন পেয়েছিলেন। আওয়ামী বলয়ের প্রভাবশালী এ শিক্ষককে পাঁচ অগাস্টের পরে অধ্যক্ষ পদ থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক আন্দোলন, আল্টিমেটাম এবং শিক্ষা সচিবের লিখিত অভিযোগ দেন। এরপরই তাকে অধ্যক্ষ পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আওয়ামী ঘনিষ্ঠ অনুচর ও বিতর্কিত শিক্ষা ক্যাডারের এই কর্মকর্তা কীভাবে মাউশির ডিজির পদে আসীন হয় তা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটসহ শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের কারো বোধগম্য নয়।”

শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার পতনের আগের দিন গত ৪ অগাস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিল যখন শিক্ষা ভবনের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল তখন সেখানে অধিদপ্তরের পরিচালক এ কিউ এম শফিউল আজমের নেতৃত্বে ও পরিকল্পনায় মিছিলে ‘হামলা করা হয়।’ নায়েমের মহাপরিচালক পদ থেকে জুলফিকার হায়দারের পদত্যাগও দাবি করে সেলিম ভুঁইয়া বলেন, “যে ব্যাক্তি দেব দেবীর মুর্তি দিয়ে বই প্রকাশনা করেছে, মসজিদের জায়গায় মন্দিরের ছবি দিয়ে যে প্রকাশনা করেছে তাকে নায়েমের ডিজি করা হয়েছে। তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা ধ্বংসের কারিগর দিপু মনির ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। আপনারা কী চান শিক্ষা প্রশাসনে ফ্যাসিস্টরা থাকুক।”

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী এসব কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ব্রিফকেস নিয়ে পদায়ন দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মোঃ নুরুজ্জামান। আমরা তারও প্রত্যাহার চাই। অবিলম্বে এই কর্মকর্তাকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।’ 

নেতাকর্মীরা বিএনপির পরিচয়ে শিক্ষা ভবনে আসেননি মন্তব্য করে সেলিম ভুঁইয়া বলেন, “আমি এখানে এসেছি শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের পরিচয়ে। আমরা কোন আওয়ামী লীগের দোসরকে অধিদপ্তরে চাই না।”

এ কর্মসূচিতে ছিলেন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের মহাসচিব জাকির হোসেন, সহকারী মহাসচিব অধ্যাপক বদরুল ইসলাম,‌ প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ কাজী মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন, অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন লিটন, অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল, যুগ্মমহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল হাকিমসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষক -কর্মচারীরা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর ঘেরাও করে ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যে থাকে প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দেন তারা।

গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে  “শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে প্রত্যাহার হওয়া ব্যক্তিই মাউশির নতুন ডিজি শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা ক্যাডার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সংবাদ প্রকাশের পরেই ডিজির প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচী ঘোষণা করে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া। 

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১২/০২/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.