নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ, বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের শিক্ষা-ভবন ঘেরাও ও শিক্ষা ভবন অচল করে দেওয়ার ঘোষণা, শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা ও শিক্ষক-কর্মচারীরের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের মুখে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক হিসেবে সদস্য পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক ড. এহতেসাম উল হককে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র শিক্ষাবার্তা’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি অথবা রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তাকে প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞান জারি হতে পারে। একই সাথে প্রত্যাহার হচ্ছেন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক পদে পদায়ন পাওয়া সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনির খাস ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ড. জুলফিকার হায়দারকেও।
এর আগে গত রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে) “শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে প্রত্যাহার হওয়া ব্যক্তিই মাউশির নতুন ডিজি” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা ক্যাডার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সংবাদ প্রকাশের পরেই ডিজির প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচী ঘোষণা করে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া। এরপর বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমিক বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর বিতর্তিক ব্যক্তি পদায়নে ক্ষুব্ধ হয়ে ঐদিন বিকেলেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদায়নের অর্ডার বাতিলের দাবি জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও নাগরিক কমিটির সদস্যরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঐ সূত্র জানায়, মাউশি ও নায়েমের মহাপরিচালক পদায়নের পর থেকেই নানা বিষয় সামনে আসছে। বিশেষ করে মাউশির মহাপরিচালক শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর আস্থাভাজন জানাজানির পর বির্তক ওঠে। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রদের আন্দোলন ও তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতেন। অন্যদিকে নায়েমের ডিজি পতিত সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিরঘনিষ্ঠ এবং বিতর্কিত কারিকুলাম বাস্তবায়নের মাস্টারমাইন্ড। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত মন্ত্রণালয়ের হাতে আসার পর তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তাই নাম প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করতে রাজী হননি।
জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ
- “শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে প্রত্যাহার হওয়া ব্যক্তিই মাউশির নতুন ডিজি”
- অধ্যক্ষ এহতেসাম উল হকের অপসারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের
- মাউশি ডিজি এহতেশাম উল হকের প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষা ভবন ঘেরাও
- মাউশির ডিজি প্রত্যাহারে ফের আল্টিমেটাম, শিক্ষা ভবন অচল করে দেওয়ার ঘোষণা
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষার দুই ডিজির প্রত্যাহার চেয়ে শিক্ষা ভবন ঘেরাও করে বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট। ঘেরাও কর্মসূচী থেকে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে এই দুই ডিজিকে প্রত্যাহার না করলে ১২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা ভবন ঘেরাও করে শিক্ষা ভবনের কোন কর্মকর্তা কর্মচারীকে অফিস করতে দেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া।
এ সময় অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া বলেন, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এ ডিজিকে ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিবর্তন করা না হলে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষা ভবন অচল করে দেওয়া হবে।’
আগেও আমরা আল্টিমেটাম দিয়ে আজ কর্মসূচী পালন করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তা কর্ণপাত করেননি। আওয়ামী আমলারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদায়ন থাকায় মাউশির ডিজিকে বাঁচাতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ফলে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিতে আমরা বাধ্য হলাম। আমাদের দেওয়া আল্টিমেটামের মধ্যে ডিজি প্রত্যাহার না হলে শিক্ষা ভবন অচল করে দেওয়া হবে। শিক্ষা বাঁচাতে আওয়ামী এই সব কর্মকর্তাদের হঠাতে আমাদের এই কর্মসূচী।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৬/০২/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
