সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের সময় কমানোর দাবি তুলেছেন শিক্ষকরা। প্রাইমারি স্কুলের সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পূর্ণ বাস্তবায়ন চান তারা। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারণী কমিটির সভায় এ দাবি জানান শিক্ষক নেতারা। একই সাথে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল জটিলতা নিরসন, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির ব্যবস্থা করা, ১০ম গ্রেডে বেতন প্রদান এবং চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পদে স্থায়ীকরণের দাবি জানান তারা। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান সমিতির নেতারা।
জানা গেছে, সমিতির সভাপতি মো. বদরুল আলম মুকুলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মো. দেলোয়ার হোসেন কুসুম। সভায় সাখাওয়াত হোসেন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, মোহাম্মদ আইয়ুব, আব্দুর রহমান, নাসিমা বিশ্বাস, জাহিদ হোসেন, মাহবুব, সৈয়দ আলী, জাহাঙ্গীর আলম, রাশেদা খাতুন, আবু কায়সার, মনির হোসেন, নাসির উদ্দিন, আবুল হোসেন প্রমুখ শিক্ষক নেতা বক্তব্য রাখেন। সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় সকাল ৯টা থেকে। আর শেষ হয় বিকাল সোয়া ৪টায়। বিদ্যালয়ে পাঠদানের সময় বেশি হওয়ায় কোমলমতি শিশুদের বেশি সময়ে বিদ্যালয়ে ধরে রাখা যায় না।
ফলে দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই, বিদ্যালয়ের পাঠদানের সময় সকাল ১০টা থেকে বিকলে ৩টা পর্যন্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান শিক্ষক নেতারা। বক্তারা বলেন, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুসারে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব সরকারি কর্মচারী টাইমস্কেল সুবিধা পেলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ৯ মার্চ থেকে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত টাইম স্কেল সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে অনেক আবেদন নিবেদন করেও কোনো সমাধান পাইনি। তাই, টাইমস্কেল সুবিধা পেতে সরকারের কাছে দাবি জানান শিক্ষকরা।
শিক্ষক নেতারা বলেন, ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির ঘোষণা করলেও আজও আমরা সে সুবিধা পাইনি। তাই, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই। বক্তারা বলেন, দেশের সব সরকারি কর্মচারী প্রতি তিন বছর পরপর শ্রান্তি বিনোদন ভাতা ও ছুটি পেয়ে থাকেন। শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ সুবিধা পেতে ৩ বছরের পরিবর্তে ৪ বছর লেগে যায়।
এতে সমগ্র চাকরি জীবনে ৩-৪টি শ্রান্তি বিনোদন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষায় সব কর্মকর্তা কর্মচারীর পদোন্নতি থাকলেও শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষকদের কোন পদোন্নতি নেই। তাই, উচ্চ শিক্ষিত মেধাবিরা এ পেশায় আকৃষ্ট হচ্ছেনা। এতে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান ব্যহত হচ্ছে। শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। কিন্তু পূর্ণদায়িত্ব না দেয়ায় তারা যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। ইতোমধ্যে অনেকই চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চলতি দায়িত্বে থেকেই অবসরে চলে যাচ্ছেন।
যা কাঙ্খিত নয়। তাই সরকারের প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের এসব জটিলতা নিরসনের দাবি জানান সমিতির নেতারা। এসব সমস্যা সমাধান না হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আবারও আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলেও জানান তারা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
