ভিক্ষুক বানিয়ে ছেলেকে অভিনব শিক্ষা দিলেন বাবা

সাংহাই রেল স্টেশন। সেখানে দাঁড়িয়ে ১০/১২ বছর বয়সি একটি ছেলে। হাতে বাটি, কাঁধে স্কুল ব্যাগ। মানুষের কাছে হাত পেতে খাবার ভিক্ষা করছে সে। প্রথম দর্শনে অনেকেই তাকে সাহায্য করছেন। কিন্তু কাঁধে স্কুল ব্যাগ দেখে কেউ কেউ কৌতূহলী হয়ে উঠছেন। এগিয়ে এসে জানতে চাইছেন পরিচয়।

প্রতিউত্তরে ছেলেটি যা বলছে তাতেই প্রশ্নকারীর চোখ কপালে উঠে যাচ্ছে! কারণ স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিষ্পাপ ছেলেটির ভিক্ষা করার কথা নয়। তার বাবার কারণে তাকে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। এর বাইরে ছেলেটি কিছুই বলতে পারছে না। যদিও সে তার বাবা-মার নাম জানে। অবস্থা দেখে একজন পুলিশে ফোন করলেন। পুলিশ এসে ছেলেটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেল। ফোন দিল তার মাকে। এবার মা’র কাছ থেকে জানা গেল বিস্তারিত; আসল কাহিনি। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, ছেলেটির বাবা তাকে এখানে ভিক্ষা করতে রেখে গেছেন। না, দারিদ্র্যের কারণে নয়। প্রতিশোধ নিতেও নয়। এমনকি সে তার সৎবাবাও নয়। তাহলে কারণ কী?

কারণ আর কিছুই নয়। বাবা ছেলেকে শাস্তি দেয়ার জন্যই এই কাজ করতে বাধ্য করেছেন। ছেলেটি স্কুলের পড়া ঠিকমতো করেনি। বাবা মনে করেছেন ভিক্ষা হলো এই অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি। গত বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও বর্তমানে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে ছড়িয়ে পড়েছে। পড়া না পারার অপরাধে ছোট্ট শিশুকে এমন শাস্তি দেয়ায় অনেকেই ছেলেটির বাবার সমালোচনা করছেন। আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন। কারণ পড়া না পারার কারণে পিতা কর্তৃক পুত্রকে এর চেয়েও ভয়াবহ শাস্তি দেয়ার নজির চীনে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ছেলেকে লঘু পাপে গুরু দণ্ড দেয়ার কারণে বাবার কোনো দণ্ড হয়েছে কিনা জানা যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জেরে ছেলেটির বাবা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি সেখানে বলেন, আমি প্রতিনিয়ত স্কুল থেকে ছেলের বিরুদ্ধে নালিশ পাই। তাই তাকে একটি জীবনমুখী শিক্ষা দেয়ার জন্য এই উপায় বেছে নিয়েছি। এ ধরনের শাস্তির মাধ্যমে আমার বাচ্চাকে আমি বোঝাতে চেয়েছি- ভালোভাবে লেখাপড়া না করলে জীবনে এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। এর বাইরে আমার ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তাছাড়া সে তো আমারই সন্তান!


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.