এইমাত্র পাওয়া

দারুল ইহসানের সনদ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে যে নির্দেশ দিল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ ২৯ (ঊনত্রিশ)টি ক্যাম্পাসের বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন  (ইউজিসি) কর্তৃক অনুমোদিত সকল বিষয়ের প্রকাশিত পাশকৃত শিক্ষার্থীদের ১১.০৪.২০১৬ তারিখ পর্যন্ত সনদ সকল দপ্তরে গ্রহণের নিমিত্তে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং মূলসনদ ইস্যু করার জন্য পরিচালনা পর্ষদ গঠনের নির্দেশনা প্রদানের আবেদনের বিষয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে দেওয়া নির্দেশনার চিঠি প্রকাশ করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মীর তায়েফা সিদ্দিকা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়,  মহামান্য হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় অনুযায়ী বৈধ ২৯ (ঊনত্রিশ)টি ক্যাম্পাসের ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত সকল বিষয়ের প্রকাশিত পাশকৃত শিক্ষার্থীদের ১১.০৪.২০১৬ তারিখ পর্যন্ত সনদ সকল দপ্তরে গ্রহণের নিমিত্তে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং মূলসনদ ইস্যু করার জন্য পরিচালনা পর্ষদ গঠনের নির্দেশনা প্রদানের আবেদন।

উপর্যুক্ত বিষয়ে জনাব মাহমুদ আহমেদ, পরিচালক (২৯টি ক্যাম্পাস), দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সমীপে দাখিলকৃত আবেদনপত্র এতদ্‌সঙ্গে প্রেরণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। 

উল্লেখ্য, বার কাউন্সিলের সনদ গ্রহণ পরীক্ষায় দুই বছর মেয়াদী কোর্স সম্পন্ন করার পর সনদ গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই এলএলবি কোর্স সম্পর্কে কিছু নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশও দেন আদালত।  হাইকোর্টের রায়ের পরদিন ২৬ জুলাই দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরিপত্রে বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিপূরণ চাইলে সরকার সহায়তা করবে। শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটার ক্যাম্পাসসহ সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটার ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

যেভাবে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম 

তদানীন্তন ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাগুরার স্বনামখ্যাত মনীষী অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আশরাফ ১৯৮৬ সালে ‘দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড’ গঠন করেছিলেন।এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে ১৯৮০ সালে ইসলামাবাদ,১৯৮১ সালে ঢাকায়, ১৯৮২ সালে জাকার্তায় এবং ১৯৮৭ সালে কায়রোতে বিশ্ব মুসলিম মনীষীদের মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এই সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুসারে ইসলামের একটি মূলনীতি ‘হায়ার এডুকেশন অন দ্য বেসিস অব প্রিন্সিপ্যালস অব হলি কুরআন অ্যান্ড সুন্নাহ’-এই মূলনীতিভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব অর্পিত হয় সৈয়দ আলী আশরাফের ওপর।সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় ট্রাস্টের নাম হবে ‘দারুল ইহসান ট্রাস্ট’ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হবে ‘দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়’।

সৈয়দ আলী আশরাফ ১৯৮৬ সালে ৬ সদস্যবিশিষ্ট দারুল ইহসান ট্রাস্ট গঠন করেন।এরপর সাভার গণকবাড়িতে অবস্থিত তার নিজস্ব ১৩ একর জমি রেজিস্ট্রি করে দান করে দেন।শুধু সাভারের সম্পত্তি নয় ধানমন্ডির ৯/এ নং রোড-এর ২১নং প্লটে নিজ বাড়ির দুটি ভবনের মধ্যে একটির একাংশ নিজের বাসস্থান হিসাবে রেখে সব সম্পদ ট্রাস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে দেন।

ধানমন্ডির দান করে দেওয়া এই ভবনে দারুল ইহসানের যাত্রা শুরু হয়।এখানেই ট্রাস্টি বোর্ডের অফিস এবং দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ও ক্লাসরুম হিসাবে অস্থায়ীভাবে শুরু হয়।ওই সময় বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না, তখন থেকেই শুরু হয় এই ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ।

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ১৯৮৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের নিজস্ব ভূমি গণকবাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।এরপর অধ্যাপক সৈয়দ আলী আশরাফের প্রচেষ্টায় ১৯৯২ সালে ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট’ পাশ হয়।১৯৯৩ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত হয়।

অতঃপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে চলতে থাকা অবস্থায় চুয়াত্তর হাজার স্কয়ার ফিট ফ্লোর-বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মিত হয়।ভবনটি উদ্বোধন করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ।তারই সভাপতিত্বে ১৯৯৭ সালে ওই অ্যাকাডেমিক ভবনে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০২/০১/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.