সাইফুর রহমান।। ২০১৫ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানিজিং কমিটির পরিবর্তে এনটি আরসিএ ( বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) হাতে আসার পর পিএসসির আদলে ( প্রীলি,লিখিত, ভাইভা) উপজেলা ও জেলার শুন্যপদের বিপরীতে একক প্রার্থী সুপারিশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।এ নিয়মে ১৩ তম পরীক্ষা অনুষ্টিত হয় এবং উপজেলার শুন্যপদের রিপরীতে প্রায় ১৭ হাজার প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করা হয়।কিন্তু এনটি আরসিএ একক নিয়োগ দিতে তালবাহানা করলে নিবন্ধনকারীরা হতাশ ও ক্ষুদ্ধ হয়ে হাইকোটের আশ্রয় নিলে, হাইকোট একক নিয়োগের রায় প্রদান করে।এনটিআরসিএ আপিল করলে যা বর্তমান চলমান।
অপরদিকে ১৩ তমের কোন সুরাহা না করেই গত ৩০ মে ২০১৭ সালে আবার ১৪ তমের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।এতে মোট ৮ লক্ষ ৬ হাজার ৬৫০ জন প্রার্থী আবেদন করে। দীর্ঘ ১ বছর ৬ মাস প্রীলি, লেখিত ও ভাইভার পর গত ২৭ নভেম্বর,২০১৮ সালে চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে এবং ১৮ হাজার, ৩১২ জন প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করা হয়।এতে পাসের হার ছিল প্রায় ২%।এত কম সংখ্যক প্রার্থী পাস করার কারন হিসেবে বলা হলো, শুন্যপদের বিপরীতে পাস করানো হয়েছে।কিন্তু এনটিআরসিএ ১৩ তমের মত ১৪ তমদেরও একক নিয়োগ না দিয়ে হাইকোটের আর একটি নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় মেরিট লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করে।
এতে ১৩,১৪ তমে উত্তীর্ণরা মেরিট লিস্টে পিছনের দিকে অবস্থান করে,কারণ ১ থেকে ১২ তমের পরীক্ষার মুল্যায়ন পদ্ধতি, আর ১৩,১৪ তমের পরীক্ষার মুল্যায়ন পদ্ধতি ছিল সম্পুর্ণ ভিন্ন।মেরিট লিস্টে ভাইভার মার্ক কে মুল্যায়ন করা হয়নি।তাহলে কেন ১৩,১৪ তমের ভাইভা নেওয়া হলো?? গত ১৯ শে ডিসেম্বর ২০১৮ সালে ২য় চক্রের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। জাতীয় মেরিট লিস্ট থেকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও অভিনব কৌশলে প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক আবেদনের মাধ্যমে বেকার নিবন্ধনকারীর কাছ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ আবেদনের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা আয় করে নেন।গত ২৪ শে জানুয়ারি২০১৯ গণবিজ্ঞপ্তির ফলাফল প্রকাশ করে, প্রার্থী সুপারিশ করা হলেও জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ কারনে যোগদান করতে পারেনি ৬ মাস মেয়াদী কম্পিউটার ডিপ্লোমাধারী আইসিটি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকগণ।যদিও নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তাদের যোগ্যতা যথাযথ ছিল এবং ২০১৬ সালের হাইকোটের একটি রায়ে ছয়মাস মেয়াদী কম্পিউটার ডিপ্লোমা ধারীরা নিয়োগের বৈধতা ছিল এবং সম্প্রতি তাদেরকে এমপিও ভুক্তি করা হচ্ছে।তাহলে ১- ১২ তমের একই সনদে কেউ চাকুরি পাবে আর কেউ পাবে না, এটা কোন ধরনের উদাসীনতা?
আর ১৩ ও ১৪ তম প্রভাষক আইসিটি ও কম্পিউটার অপারেশন পদে নিবন্ধনধারীরা পাস করার পর এই প্রথম আবেদন করার সুযোগ পায় কিন্তু নীতিমালা-২০১৮ কারনে অনেকে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও, নিয়োগের আগেই অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে। যেখানে ১৩,১৪ তমে একক নিয়োগ দেওয়ার কথা। জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা- ২০১৮ প্রয়োগ হওয়ার কথা ১৫ তম নিবন্ধন পরীক্ষা থেকে কিন্তু কি কারনে ১-১৪ তমের উপর প্রয়োগ করা হলো বিষয়টি বোধগম্য নয়।উল্লেখ্য ছয়মাস মেয়াদী কম্পিউটার ডিপ্লোমা ধারীরা এনটিআরসিএ প্রশ্নপত্রে তাদের নিজেদের যোগ্যতা বলে পাস করে।১৪ তমের ফলাফল প্রকাশ করা হয় নীতিমালা জারীর কয়েক মাস পর।যদি ছয়মাস মেয়াদী কম্পিউটার ডিপ্লোমা ধারী আইসিটি শিক্ষকদের নিয়োগ না দেওয়া যায় তাহলে বিভিন্ন নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তিতে সুযোগ এবং জাতীয় মেরিট লিস্টে অন্তর্ভুক্তি ও সুপারিশ করা হলো কেন?? কেনইবা প্রতিবছর নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও পাস করানো হয়??যদি বেকাদের কাংখিত সেই চাকুরিই না হয় তাহলে সনদ দিয়ে কি করবে??এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সময় সমন্বয়হীন সিদ্ধান্তের কারনে বেকার নিবন্ধনকারীরা আজ হতাশ ও ক্ষুদ্ধ।
এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া নিজেদের সনদ অবৈধ যোষনা করার কারনে বেকার নিবন্ধনধারীরা আজ হাইকোটের বারান্দায় ঘোরপাক খাচ্ছে এবং নিবন্ধনধারীদের জীবনে মুল্যমান সময় নষ্ট করছে।আর সব নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত যদি হাইকোটই দেয় তাহলে এনটিআরসিএ র প্রয়োজন কতটুকু??এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ আজ মামলা বাজ প্রতিষ্ঠানে পরিণত।বিভিন্ন পত্রিকার তথ্যমতে ২০১৬ সালে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পায় ২৪৩ টি এবং ২০১৯ সালে ৫০/৬০টি মামলা হয়েছে। কিন্তু অবাক করার বিষয় একটি মামলা রায়ও এনটিআরসিএ পক্ষে যায়নি।তাহলে কেন এত ভুল সিদ্ধান্ত??কেন বেকারদেরকে হাইকোটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে??১-১২ তম এবং ১৩,১৪ তমদের কোন ব্যবস্থা না করেই, বিভিন্ন পরিপত্র জারীর কারনে মামলাসহ নিয়োগের নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারনে এই সব জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা- ২০১৮ সংশোধন করে,১৩, ১৪ তম প্রভাষক আইসিটি, কম্পিউটার অপারেশন পদসহ সকল নিবন্ধনধারীদের সমস্যা দুর করতে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।।
লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
