এইমাত্র পাওয়া

উপাচার্যের আশ্বাসে অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেছে রাবি শিক্ষার্থীরা

রাজশাহীঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে আমরণ অনশন শুরু করেন তারা। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্‌ হাসান নকীবের আশ্বাসে জুস এবং বিস্কুট খেয়ে আগামী সোমবার পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থী প্রথমে অনশন শুরু করেন। এরপর ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনশনে অংশ নেন। এরপর সেখানে অন্তত নয়জন শিক্ষার্থী সারা রাত অবস্থান করেন। ওই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে আজ শুক্রবার সকালে বেশকিছু শিক্ষার্থী অনশনে অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান, প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানসহ প্রশাসনের কয়েকজন কর্তাব্যক্তি কয়েকদফা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসলেও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির বিষয়ে অনড় থাকেন। এরপর আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্‌ হাসান নকীবের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেন।

শিক্ষার্থীরা জানন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন যে, একটা রিভিউ কমিটি তাদের সঙ্গে বসে সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। তাই আপাতত তারা অনশন স্থগিত করছেন।

অনশনের বসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এসে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সমস্ত জায়গায় সংস্কার ও নতুন করে চিন্তা করার দরজা উন্মুক্ত হয়েছে। নতুন বাস্তবতায় কোটা রাখার সুযোগ নেই। ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় ৩ শতাংশ পোষ্য কোটা রাখার পক্ষে ৮০-৯০ শতাংশ স্টেকহল্ডাররা মতামত দিয়েছেন। আমার ইচ্ছাকে সেখানে তীব্রভাবে উপোস করবো, এটা খারাপ অভ্যাস। সেখানে আমার অবস্থান জানিয়ে তাদের বলেছি, এটি রাখার পক্ষে সুস্পষ্ট কোনো যুক্তি আমার কাছে নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ম ও যুক্তির মধ্যে দিয়ে এটা সমাধান করতে হবে। সর্বোচ্চ সহানুভূতি ও বিবেচনা দিয়ে একটা রিভিউ কমিটি তোমাদের সঙ্গে বসবেন এবং তোমাদের কথা শুনবেন। সেখানে তোমরা তোমাদের দাবি, সমস্যা ও সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরবে। শিক্ষক ও বেশকিছু কর্মকর্তা আছেন, যাদের জন্য পোষ্য কোটা মানায় না। আবার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা একেবারে নিম্নআয়ের, জীবন নিয়ে সংগ্রাম করে, যদি সুযোগ থাকে এসব বিষয়ও উঠে আসবে আলোচনায়। তোমরা অনশন ভাঙবে এজন্য যে তোমরা যেটা চাচ্ছো, সেটা করার জন্য আমাদের সকল চেষ্টা শুরু হয়ে গেছে।’

অনশন ভাঙার ব্যাপারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) আন্দোলন মঞ্চের সদস্যসচিব আমানুল্লাহ আমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং আমাদের আশ্বস্ত করেছেন একটা রিভিউ কমিটি আমাদের সঙ্গে বসে সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। সেই সিদ্ধান্ত যদি আমাদের পক্ষে না যায়, তাহলে আমরা আবারও আন্দোলনে বসবো। এই জায়গায় প্রশাসনের এক ধরনের মৌন সমর্থন আমরা পেয়েছি। উপাচার্য মহোদয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি মর্যাদা রেখে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে আপাতত অনশন ভাঙা হয়েছে।’

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৫/১১/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading