এইমাত্র পাওয়া

শীতের পিঠা বিক্রি করে স্বাবলম্বী নারীরা

শীত মৌসুম এলেই মাদারীপুরে পিঠা বিক্রির তৎপরতা বেড়ে যায়। আর পিঠা বিক্রি করেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন ওই এলাকার নারীরা। কেননা সাধারণত নারীরাই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

মাদারীপুর সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে রাস্তার মোড়ে, অলিতে-গলিতে, বিভিন্ন হাটে-বাজারে চলছে শীতের পিঠা বিক্রির ধুম। মাদারীপুরের সদর, কালকিনি,শিবচর, রাজৈর উপজেলাসহসহ পাশ্ববর্তী বানিয়ারচর, জলিরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে চলছে পিঠা বিক্রির হিড়িক। এ ব্যবসায়ে ভালো রোজগার করে শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পিঠাওয়ালিরা জানান, এ ব্যবসায় তেমন বেশি পুঁজি লাগে না।

জ্বালানি হিসেবে লাকড়ি বা খড়ি, কিছু গুড়, নারিকেল ও চাউলের গুঁড়া দিয়েই শুরু করা যায় এ ব্যবসা। মাদারীপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে দৈনিক ও সাপ্তাহিক হাট-বাজারগুলোতে জমজমাটভাবে শীত মৌসুমের ভাপা পিঠার ব্যবসা শুরু হয়েছে । ক্রেতাদের সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো। এ ব্যবসা চলে দিনে দুই বেলা। শুরু হয় কাকডাকা ভোর থেকে। যদি সারাদিন কুয়াশা থাকে তাহলে পিঠা বিক্রি জমে ওঠে। দোকানে খুব সকালে ও বিকালে ক্রেতাদের ভিড় থাকে বেশি। সমাজের সব শ্রেণির লোকই পিঠা খেতে যায়। কেউ টুলে বসে, কেউ বা দাঁড়িয়ে এ পিঠা খায়। আবার অনেকে বাড়ির জন্য কাগজে করে নিয়ে যায় বলে এসব পিঠার কদর বেশি। অনেকে ভাপা পিঠা ছাড়াও চিতই পিঠা বানিয়ে খেজুরের গুড় দিয়েও এসব পিঠা বিক্রি করেন।

তাছাড়া চিতই পিঠার সঙ্গে ধনিয়া পাতা, মরিচ, সরষে, শুঁটকি বাটা দিয়েও পিঠা খায়। এসব পিঠার এক একটির দাম নেয়া হয় ৫ থেকে ১০ টাকা। খোলা আকাশের নিচে এসব দোকানের বেশির ভাগ ব্যবসায়ীই নারী। তবে অল্প সংখ্যক পুরুষও রয়েছেন। মাদারীপুরের উজালা বেগম জানান, প্রতি বছর শীত এলে তিনি পিঠা বিক্রি শুরু করেন। শীতের মাত্রা যতই বেশি থাকে, পিঠা বিক্রিও বাড়তে থাকে। প্রতিদিন ১০০০/১৫০০ টাকার পিঠা বিক্রি হয়। টেকেরহাটের শিউলি বেগম জানান, যে পিঠায় গুড় ও নারিকেল দেয়া হয় সেসব পিঠার দাম বেশি এবং ক্রেতাও বেশি। শীতের হিমেল হাওয়ার তীব্রতা যতই বাড়ছে পিঠা বিক্রিও ততই বাড়ছে। জহিরুল হক জনি নামে এক ক্রেতা পিঠা খেতে খেতে বলেন, সকালে পিঠা খেতে ভালই লাগে।

আমি প্রায়ই রাস্তার ধারে বানানো পিঠা খেয়ে থাকি। এখানে সব পেশার লোকজন পিঠা খেয়ে থাকেন। শীতের পিঠা বিক্রির ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খাবার সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম আরো ভালো ভাবে জানতে পারছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সবচেয়ে বড় কথা এই পিঠার মাধ্যমে স্ববলম্বী হওয়ার একটা পথ খুঁজে পেয়েছেন গ্রামঞ্চলের দরিদ্র নারীরা। আর তাদের পিঠা বিক্রি আয় থেকেই চলছে বহু সংসার।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.