এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষাসংস্কারে শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ শিক্ষাসংস্কার ও দক্ষ গ্র্যাজুয়েট প্রস্তুত করার জন্য দেশের শিক্ষকদের বেতন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট এর মহাপরিচালক এবং শিক্ষাবিদ আব্দুল আজিজ।

শনিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেকচার থিয়েটারের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট আয়োজিত ‘গণ অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশ ২.০ শিক্ষাসংস্কার: কেমন গ্র্যাজুয়েট চাই?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করা এবং এর মাধ্যমে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট প্রস্তুত করার জন্য পাঠ্যক্রম সংশোধন, সিলেবাসে নতুন বিষয় যুক্ত করা, শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করা, শিক্ষকদের বেতন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। শিক্ষাবিদ আব্দুল আজিজ বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষকদের চাকরি হওয়া উচিত ছিল প্রথম শ্রেণির চাকরি, কিন্তু তারা তাদের কাজের মূল্যায়ন পান না, সামাজিক মর্যাদাও তাদের সেভাবে দেওয়া হয় না। এর ফলে তারা যে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলবে, সেই প্রেষণা তারা পান না। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করতে হলে শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন দিতে হবে।
এসময় তিনি ইসলামী শিক্ষার ক্রমবিকাশ, আধুনিক শিক্ষার ক্রমবিকাশে মুসলমানদের অবদান, ওয়েস্টার্ন এবং ইসলামি শিক্ষার পার্থক্য, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব ইত্যাদি বিষয়েও তথ্য উপাত্ত সহকারে বিশদ আলোচনা করেন। সমন্বিত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আব্দুল আজিজ বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম, মতাদর্শের মানুষ বাস করে। সেক্ষেত্রে সবাইকে একটি সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় আনা উচিত, যেখানে মাদ্রাসা, সাধারণ স্কুল শিক্ষা কার্যক্রম এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় জ্ঞান এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠার সুযোগ পায়। কারণ ধর্ম আমাদের মূল্যবোধ শেখায়, আর সেক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা জরুরি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শহীদুল হক প্রথমে শিক্ষাবিদ আব্দুল আজিজের সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, এই মুহূর্তে দেশে কোনো নির্বাচিত সরকার নেই, তাই এই অবস্থায় যদি সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইসলামী শিক্ষা। ইসলামিক অর্থনীতি হয়ে যাবে শুধু অর্থনীতি, ইসলামিক পৌরনীতি হয়ে যাবে শুধু পৌরনীতি, সুতরাং ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইসলামী শিক্ষাই।

কেমন গ্র্যাজুয়েট চাই প্রসঙ্গে আলোচক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, আমাদের এথিক্যাল গ্র্যাজুয়েট চাই। এথিক্যাল গ্র্যাজুয়েট না হলে সে যদি বিসিএস ক্যাডার হয় তবে চোর বিসিএস ক্যাডার হবে, ডাক্তার হলে চোর ডাক্তার হবে। তাদের মাঝে সততা থাকবে না। গ্র্যাজুয়েটদের অন্ততপক্ষে ৩টি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে; যোগাযোগ দক্ষতায় ভালো হতে হবে; ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী উন্নত করতে হবে; গ্র্যাজুয়েটদের আইকিউ, ই কিউ, এস কিউ এর সমন্বয় করতে হবে। এছাড়াও আইসিটি জ্ঞান, শৃঙ্খলা, মিতব্যয়িতা, দায়িত্ববোধ, স্বচ্ছতা, গবেষণা দক্ষতা থাকতে হবে। গ্র্যাজুয়েটরা নিজেরাই হবে উদ্যোক্তা। যারা চাকরি খুঁজবে না, বরং নিজেরাই চাকরি দেবে।

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইউসুফ এম ইসলাম বলেন, গ্র্যাজুয়েটদের থেকে মানুষ যেটা আশা করে সেটা আগে গ্র্যাজুয়েটদেরকে শেখাতে হবে। অর্থাৎ গ্র্যাজুয়েটরা যে সমস্যার সমাধান করবে, সেই সমস্যা সম্পর্কিত প্রশ্ন আমাদেরকে আগে ক্লাসে নিয়ে আসতে হবে। গ্র্যাজুয়েটরা ক্লাসে যখন সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারবে, তখনই গ্র্যাজুয়েশন শেষে তারা সেই সমস্যার সমাধান করতে পারবে।

এসময় তিনি নোট ভিত্তিক উচ্চশিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করে বলেন, একটি শিশু যেমন কোনো নোট পড়ে হাঁটা শিখতে পারে না, তেমনি একজন গ্র্যাজুয়েটও নোট ভিত্তিক পড়াশোনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারে না। সমস্যা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো তাই ক্লাসে আনতে হবে এবং পড়াতে হবে।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও সভায় এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আজিজুন নাহার মুনমুনের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফাজলী ইলাহী, মা’হদাকুল ফিকরি ওয়াদ দিরাসাতিল ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শায়খ মুসা আল হাফিজ।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৫/০৯/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.