উইলস স্কুল’র সভাপতির রামরাজত্ব:পিয়নের এক মাসের বেতন কর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ 

৯০ দিনের রাজা।  তার পা চাটাদের হাসালেন আর  কাঁদালেন তার মতের বিরোধীদের।একটা পিয়ন কতই বা বেতন পান।

এই দ্রব্যমুল্যের বাজারের নুন আনতে পানতা ফোরায়। কর্মকর্তা থেকে কর্মচারী সবার এই অবস্থা। বাজারের আগুন যেন তাদের ঘরে বিরাজমান। এতক্ষন যার কথা বলছি তিনি উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক সভাপতি শাহ আলমের কথা । ৯০ দিনের সভাপতির দায়িত্বে কায়েম করলেন রামরাজত্ব।

কতটা নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষ একজন পিয়নের এক মাসের বেতন কর্তন করলেন। আরো অনেকের ৩ দিন থেকে শুরু করে ১ মাস। সোকজ ( কারণ দর্শানোর নোটিশ) করলেন প্রায় ৪০/৫০ জনকে। তিনি নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা দাবী করলেও তিনি এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও কেউ জানতেন না তিনি মুক্তিযোদ্ধা। কোনোদিন নামের সাথে যুক্ত করেননি বীর মুক্তিযোদ্ধা।তবে প্রায় ৯০ দিনের শাসনামলে এই শাহ আলম হয়ে ওঠেন শিক্ষক -কর্মচারিদের কাছে মুর্তিমান আতঙ্ক। শিক্ষক-কর্মচারিদের ভাষ্যে, এডহক গভর্নিং বডির সভাপতি থাকাকালীন তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারতেন না।  ৯০ দিনের দায়িত্বে তিনি এখানে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।

শিক্ষকরা দাবি করেন, তার ভাই আওয়ামী লীগ সরকারের জেলার দলীয় সর্বোচ্চ পদ থাকায় বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন শাহ আলম।

সাধারণ শিক্ষক তার কাছে ছিলেন জিম্মি।

কেউ তার বিরুদ্ধে কিছুই বলতে পারতেন না। কারন দর্শানোর নোটিশ (সোকজ), বেতন কর্তন, রুমে ডেকে অপমানি , কথায় কথায় তুচ্ছতাচ্ছিল্য – কী করেননি তিনি? অত্যাচার চালিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের আয়া বোয়ার ওপরও।

একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষাবার্তাকে বলেন, একজন স্বৈরাচার ছিলেন শাহ আলম। শিক্ষকদের

অত্যাচার নির্যাতন করেছেন ক্ষমতায় থাকাকালীন।বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নিতেন। কোন শিক্ষক ফোন করলে তিনি বলতেন প্রিন্সিপাল ও টিআর এর মাধ্যমে আমার সাথে কথা বলতে হবে। প্রটোকল মানতে হবে নতুবা চাকরি ছেড়ে এই প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যান।

একজন ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, অনেকটা স্বেচ্ছাচারিতার মনোভাব ছিল তার। তিনি আরও বলেন, শাহ আলমের শাস্তি হওয়া উচিত। অন্যায়ভাবে বেতন কর্তন,  কথায় কথায় সোকজ এর শিকার হয়েছি। আমরা আদালতের সম্মুখীন হবো শাহ আলমের বিচারের জন্য।

এক মাসের বেতন কর্তন নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার বলেন , এটা অন্যায়  ৪ দিনের ছুটির জন্য কোন মতেই এক মাসের বেতন কর্তন করতে পারে না। যতটুকু অপরাধ করবে ততটুকু সাজা হবে ।

বেতন কর্তন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মারুফ বলেন, এটা শুধু অপরাধ নয় মানবিকতা বর্জিত কাজ। তিনি আরও বলেন ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নিলে আমি বিনা পারিশ্রমিকে আইনী সহায়তা দিতে প্রস্তত।

এই বিষয়ে  প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালের  মোবাইলে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। মতামত নিতে সাবেক সভাপতি শাহ আলমের  সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এ/২৯/০৮/২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.