শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের দাবির একদিন পরেই সব সভাপতিকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে লেজুড়বৃত্তি করা সব বেসরকারি স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি বাতিল করে  প্রজ্ঞাপন জারী করার দাবি জানিয়েছিল শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট। গতকাল সোমবার শিক্ষা সচিবের নিকট এই দাবি জানানোর একদিন পরেই দেশের সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে সংশ্লিষ্ট জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক/জেলা প্রশাসকের মনোনীত প্রতিনিধি, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ (বেসরকারি মাধ্যমিক-১) এর সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরতি প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। এর আগে গতকাল সোমবার শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষা সচিবের কাছে এই দাবি তুলে ধরা হয়। শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভুঁইয়া নির্দেশনায় অতিরিক্ত মহাসচিব মোঃ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রে তাৎক্ষনাৎ কতিপয় সংস্কারের এই দাবি নিয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অন্যতম নেতা এএইচএম সায়েদুজ্জামান ও আলমগীর হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০২৪ এর ৬৮ অনুযায়ী নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করা হলো :

এতে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক/জেলা প্রশাসকের মনোনীত প্রতিনিধি, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে; এবং মহানগর এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার/বিভাগীয় কমিশনারের মনোনীত প্রতিনিধিকে সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করা হলো। পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত তারা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে লেজুড়বৃত্তি করা সব বেসরকারি স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি বাতিল করে  প্রজ্ঞাপন জারী,  প্রজ্ঞাপন জারী করে ২০২৩ খ্রীঃ তারিখ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল ও পাঠ্য বিষয়ের ব্যাপক সংশোধন করতে হবে । নতুন শিক্ষাক্রমের জন্য রচিত পাঠ্যপুস্তক সংশোধন করে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতির (কাঠামোবদ্ধ প্ৰশ্ন পদ্ধতি) উপযোগী পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করতে হবে। উহা দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দলীয়ভাবে নিয়োগকৃত অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সকল পর্যায়ের কর্মচারীর এমপিও’র জন্য আবেদনপত্র ও তাদের নিয়োগ বাতিল করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান দলীয় শপথ বাতিল করে পূর্বের শপথ চালু করতে হবে। অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক/সহকারী প্রধান শিক্ষকের বর্তমান নিয়োগ বিধি বাতিল করে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ) এর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদির সরকারী অংশ প্রদান এবং জনবল কাঠামো সম্পর্কিত নির্দেশিকা ২০১০ এর মার্চ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত নিয়োগ বিধান চালু করতে হবে। অবসর সুবিধা/কল্যাণ ট্রাষ্টের ভোগান্তি বন্ধ করতে হবে। অবসর সুবিধা/কল্যাণ ট্রাষ্টের কমিটি পুনঃগঠন করতে হবে। অন্যায়ভাবে বরখাস্তকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরীতে পুনর্বহালের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি এবং বকেয়া সহ বেতন-ভাতা প্রদানের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে । ইত্যাদি দাবি শিক্ষা সচিবের মাধ্যমে শিক্ষা উপাদেষ্টার কাছে পেশ করেন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট।এ বিষয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভুঁইয়া শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে যে দাবি দাওয়া দেওয়া হয়েছে তা শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষা বান্ধব। শুধু কমিটি নয় আমাদের প্রত্যেকটা দাবিই বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ দাবি গুলোসব শিক্ষাবান্ধব।

জানতে চাইলে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব মোঃ জাকির হোসেন কমিটির এই দাবি পূরণ করায় সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, অচিরিয়ের জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া সব দাবি পূরণ করতে হবে। তিনি দাবি পূরণ হবার আশাবাদ ব্যক্তি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২০/০৮/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.