খুলনাঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদ হোসেন পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় শিক্ষার্থীদের সামনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সবকিছু মিলিয়ে আমার পক্ষে আর থাকা সম্ভব না। গতকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় যে লেখালেখি শুরু হয়েছে, তাতে আমার সম্মানহানি হচ্ছে। আমি সম্মানহানি আর নিতে পারছি না। সবকিছুর আগে আমার সম্মান, আমাকে শান্তিতে থাকতে দাও। আমি চাই না তোমরা আর কোনো ধরনের কিছু করো। তোমরা সবাই ক্লাসে ফিরে যাও।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলোজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন ২০২১ সালের ২৫ মে ভিসি হিসেবে যোগদান করেন।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২ আগস্ট খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের শিক্ষার্থী ও জনতার বিশাল মিছিল পুলিশের বাধা উপক্ষো করে শিববাড়ি থেকে জিরোপয়েন্ট চলে আসে। এই মিছিল শহরমুখী হতে চাইলে শত শত সশস্ত্র পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ সর্বশক্তি নিয়োগ করে। টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ, জলকামান, রাবার বুলেট ও গুলি ছুড়লে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মুহুর্মুহু শব্দে প্রকম্পিত হতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকা।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করে উদ্বিগ্ন সময় কাটিয়েছেন খুবি উপাচার্য। যেভাবে সংঘর্ষ মাত্র দুইশ গজ দূরের বাংলো থেকে দেখেছেন তাতে গভীরভাবে চিন্তিত পড়েন শিক্ষার্থীদের জীবনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায়। একবার ক্যাম্পাসের বাংলোর ভেতর, একবার বাইরে পায়চারি করে অস্থির হয়ে পড়েন তিনি। এমন কঠিন অবস্থায় তার প্রধান চাওয়া ছিল যেন কোনো ছাত্র হতাহত না হয়।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন কোটা আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কঠিন অবস্থার মুখেও সাহসের সাথে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে দেননি কোনো পুলিশ, হতে দেননি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। ক্যাম্পাসে যাতে পুলিশ না ঢোকে সেজন্য সেই কঠিন চাপের মুখেও তিনি ছিলেন অনড়।
সেই সময় প্রফেসর মাহমুদ হোসেনের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায় উপাচার্য প্রফেসর মাহমুদ হোসেন অফিসে বসার একটি ছবির সাথে লেখেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো পুলিশ ঢুকবে না, এখানে আমিই প্রশাসন’। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনোবল আরও চাঙ্গা করে। ওই দিনের পর পুলিশ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ খবর শোনার পরপরই উপাচার্য ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের দপ্তরকে থানায় পাঠান। নিজে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। ছাত্র বিষয়ক পরিচালকের দপ্তরের পরিচালক ও সহকারী পরিচালকদের নির্দেশনা দেন যতক্ষণ শিক্ষার্থীদের থানা থেকে ছেড়ে না দেওয়া হয় ততক্ষণ সেখানে থাকতে।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদত্যাগের দাবি উঠলেও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগের দাবি তোলেননি কোনো শিক্ষার্থী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা তাদের বিপদের সময় পাশে থাকা ভিসিকেই স্বপদে রাখতে চান।
যেখানে বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা, সেখানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে নিয়ে গর্ববোধ করছেন খুবি শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২০/০৮/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
