এইমাত্র পাওয়া

কে হচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য?

চট্টগ্রামঃ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের পদত্যাগের পর অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এতে থমকে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কাজ। এমতাবস্থায় দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তার আগে এখন শুরু হয়েছে আলোচনা, কে হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য। কেউ বলছেন, রাজনৈতিকভাবে পরিচিত শিক্ষকদের থেকে শিক্ষার্থীবান্ধব কেউ হতে পারেন। তারা বলছেন, দলীয় কেউ না হলে প্রশাসন চালানোই কঠিন হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, যেহেতু দেশে বর্তমানে নির্দলীয় সরকার ফলে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত নন এমন শিক্ষকদের থেকে হতে পারেন উপাচার্য।

উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি রাজনৈতিকভাবে পরিচিত কোনো শিক্ষককে উপাচার্যের দায়িত্ব দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভালো চলবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় তিনি একই ঘরনার শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাবেন। অন্যদিকে নিরপেক্ষ থেকে কাউকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি সেই সহযোগিতা নাও পেতে পারেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১২ আগস্ট) পদত্যাগ করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু তাহের। একই সময়ে পদত্যাগ করে দুই উপ উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে ও অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী। এরপর থেকেই পরবর্তী উপাচার্য কে হচ্ছেন তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, উপাচার্য হিসেবে বেশ কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাখাওয়াত হুসাইন ও দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

এদের মধ্যে উপাচার্য হওয়া নিয়ে বেশ আলোচনায় রয়েছেন অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান। ক্যাম্পাসে তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক হিসেবে বেশ পরিচিত। নিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন সময়ে তার ব্যাপারেই একাডেমিক দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রশংসা শোনা যায়। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলন ও মানবাধিকার প্রশ্নে তাকে বেশ জোরালো ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে। সম্প্রতি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও তাকে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. মো. শহিদুল হক বলেন, উপাচার্য অবশ্যই এমন কেউ হবেন যিনি দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার উর্ধ্বে থাকবেন। এক কথায় নিরপেক্ষ থাকবেন। তার মাঝে অবশ্যই বৈষম্যবিরোধী চেতনা রক্ত মাংসে লালন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি হয়েছে দুটি বিষয়ের জন্য। একদিকে জ্ঞান চর্চা আরেকদিকে জ্ঞান সৃষ্টি। শিক্ষকতার কাজ এবং গবেষণার কাজ এ দুটোকে যারা এগিয়ে নিতে পারবেন একই সাথে প্রশাসনিকভাবে দক্ষ, সাহসী, উদ্যোগী, উদ্যমী এরকম মানুষকেই চাই।

দলীয় মনোভাব আছে এমন অনেক শিক্ষক উপাচার্য পদে আসার সম্ভাবনার গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে এক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্ররা এমন মানুষ চায় যে সামগ্রিকভাবে স্বৈরাচারের দোসর হবে না। সে অর্থে যদি নিরপেক্ষতা বলেন, তাহলে তো সেটা সম্ভব না কারণ আমাদের সমাজটা দীর্ঘ ৫০ বছরে গড়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি এভাবে। নিরপেক্ষ পাওয়া অসম্ভব। আমাদের অন্ততপক্ষে এতটুকু নিশ্চিত হতে হবে যারা স্বৈরাচার না, খুনি না।তখন তো বিএনপি-জামায়াত বা অন্যান্য সংগঠন থেকে আসবে এটা অস্বীকার করার উপায় নাই।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৬/০৮/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.