এইমাত্র পাওয়া

বাতিল হচ্ছে মাউশির ডিজির নিয়োগ, নতুন ডিজি হচ্ছেন কে?

আল আমিন হোসেন মৃধা, ঢাকাঃ বিদায়ী আওয়ামী সরকারের আমলে সচিবসহ সব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। একইভাবে দলবাজ সচিব, মহাপরিচালক বা প্রতিষ্ঠান প্রধানরাও বাদ পড়ছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে প্রশাসনে সচিব, সিনিয়র সচিব বা সমমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন ৮৫ জন। এর মধ্যে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োজিত রয়েছেন ১৯ জন।

এই নিয়োগের মধ্যে রয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি অধ্যাপক নেহাল আহমেদ। চলতি বছরের গত ২৫ এপ্রিল তিনি বিদায়ী সরকারের আমলে  মহাপরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান।  আওয়ামীলীগের শাসনামলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা আবদুল হামিদের ভাগিনা অধ্যাপক নেহাল আহমেদ গত সোমবার থেকেই অফিসে আসছে না।

জানা গেছে, অধ্যাপক নেহাল আহমেদ ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাউশির মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। মাউশিতে যোগদানের  পূর্বে তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও  তিনি ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংশ্লিষ্ট একটি বিশস্ত সূত্র শিক্ষাবার্তা’কে নিশ্চিত করেছেন অধ্যাপক নেহাল আহমেদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হচ্ছে। আর তার এই জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর এ বি এম রেজাউল করীম।

তবে এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর এ বি এম রেজাউল করীম কিছু জানেন না বলে জানান।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। গণহত্যার তকমা মাথায় নিয়ে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। ওই দিন দুপুরেই হেলিকপ্টারে চড়ে ছোটবোন শেখ রেহানাকে নিয়ে দেশ ছাড়েন তিনি। বর্তমানে তারা দিল্লিতে রয়েছেন বলে জানা যায়। ওই দিনই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক ও বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠক করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা জানান। পরে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন তার ভাষণে অন্তর্বর্তীকালে সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। গত মঙ্গলবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া হয়েছে। নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার বরাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ গ্রহণ হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা সরকারের প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। গত ১১ জানুয়ারি নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে থাকা কর্মকর্তারা অপরিহার্য না হলেও দলীয় আস্থাভাজন হওয়ার কারণে মেয়াদ শেষে তাদের চুক্তিতে রেখে দেয়া হয়। দ্বাদশ নির্বাচনে একপেশে নির্বাচনের পর সিনিয়র সচিব, সচিব এমন কী অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার কর্মকর্তারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। এসব আমলাদের অনেকেই আওয়ামী লীগকে চতুর্থবারে ক্ষমতায় আনার গুরু দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো: তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার চুক্তি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, অন্য সব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও বাতিল করা হবে।

চুক্তিভিত্তিতে নিয়োজিত শীর্ষ কর্মকর্তারা হলেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো: মাহবুব হোসেন, মুখ্য সচিব মো: তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো: রহমাতুল মুনিম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) লোকমান হোসেন মিয়া, জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) আহমেদ মনিরুছ সালেহীন, পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মোকাম্মেল হোসেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: হুমায়ুন কবীর, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় চুক্তিভিত্তিক সচিব ও অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা রয়েছেন।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৮/০৮/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.