ফতেজংপুর উচ্চ বিদ্যালয়: গোপন নিয়োগের পাঁয়তারা, তদন্তে জেলা শিক্ষা অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার ৩নং ফতেজংপুর ইউনিয়নের ফতেজংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তার ছেলে দাতা সদস্যের বিরুদ্ধে। গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চার পদের বিপরীতে অর্ধ লক্ষ টাকা লেনদনের অভিযোগে সরেজমিনে তদন্ত করবে জেলা শিক্ষা অফিস।

বুধবার স্কুলটিতে সরেজমিনে তদন্তে যাবেন দিনাজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত  ২ মে ২০২৪ ইং তারিখে “চিরিরবন্দরের ফতেজংপুর উচ্চ বিদ্যালয়: চার পদে গোপনে নিয়োগের পাঁয়তারা!” শিরোনামে এবং ৮ মে ২০২৪ ইং তারিখে “ফজলে এলাহী: চাকরি পুলিশে, ব্যস্ত স্কুলের নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে!” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় দুইটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ফতেজংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি  হরমুজ আলী শাহ বরাবর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়,  আপনার প্রতিষ্ঠানে ০১ জন অফিস সহায়ক, ০১ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ০১ জন নৈশ প্রহরী এবং ০১ জন আয়া পদে মোট ০৪ জন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে একখানা অভিযোগ জেলা প্রশাসক দিনাজপর মহোদয়ের কার্যালয়ের মাধ্যমে পাওয়া গেছে। উক্ত অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য আগামী ০৩/০৭/ 2024 ইং তারিখ রোজ বুধবার সকাল ১১.০০ ঘটিকায় নিঃস্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে তদন্ত করবেন। তদন্তকালে আপনার প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক/কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও যাবতীয় তথ্য উপাত্তসহ উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।

জানা গেছে, ফতেজংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এনটিআরসিএ বহির্ভুত চারটি পদে (নিরাপত্তাকর্মী, নৈশ্য প্রহরী, আয়া ওপরিচ্ছন্নতা কর্মী) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হরমুজ আলী শাহ এবং তারই ছেলে দাতা সদস্য শাহ ফজলে এলাহী ( যিনি রংপুর রেঞ্জে পুলিশের এএসআই পদে কর্মরত) এবং বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ছালেক লতিফ। বহুল প্রচারিত একটি জাতীয় দৈনিক ও একটি স্থানীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বিধিমালা থাকলেও গোপনে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে যা স্কুলটির শিক্ষক, এলাকাবাসী কেউই জানেন না।

চলতি বছরের গত ১০ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বেসরকারি বিদ্যালয়ের কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালার পরিপত্রে ২.২ “ক” ধারায় উল্লেখ রয়েছে, শূন্য পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য বহুল প্রচারিত ২ (দুই)টি দৈনিক পত্রিকায় (১টি জাতীয় পত্রিকা এবং ১টি স্থানীয় পত্রিকা) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও সম্ভাব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির ব্যাপকপ্রচার করতে হবে। এবং ২.৩ এর “খ” ধারায় উল্লেখ রয়েছে, প্রাপ্ত আবেদনের সংক্ষিপ্ত তালিকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড/ওয়েব সাইট-এ প্রকাশ করতে হবে।

কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে অতি গোপনে এই চার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ম্যানেজিং কমিটি। কবে কোন পত্রিকায় এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে তা জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারও মনে নেই বলে জানান। তবে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে দাতা সদস্য পুলিশ কর্মকর্তা শাহ ফজলে এলাহী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কথা স্বীকার করলেও পত্রিকার নাম বলেননি।

আরও পড়ুনঃ ভোটের মধ্যে চিরিরবন্দরে ফতেজংপুর বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে তোড়জোড়

এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ফতেজংপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী বীরগঞ্জ উপজেলার বীরগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এই নিয়োগে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান ছালেক লতিফ। এই নিয়োগ নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

তদন্তের বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলে এলাহীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  রফিকুল ইসলাম শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, তদন্তে যা তথ্য পাওয়া যাবে, তা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগীতা করবে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা হবে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০২/০৭/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.