এইমাত্র পাওয়া

মেয়েকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠিয়ে বাবার লা*শ নিয়ে গ্রামে আসেন মা!

ফেনী: মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার আগ মুহূর্তে রবিবার (৩০ জুন) সকালে হঠাৎ মৃত্যু হয় স্বামীর। একদিকে স্বামীর লাশ গ্রামে নিয়ে দাফন করা, অন্যদিকে মেয়েকে পরীক্ষার কেন্দ্রে পাঠানোর তাড়া। শোকাহত স্ত্রী মৃত স্বামীকে হাসপাতালের লাশঘরে রেখেই মেয়েকে পাঠালেন পরীক্ষার কেন্দ্রে। এরপর দুই শিশুপুত্র মাহমুদুল হাসান (১৩) ও আবুল হাসনাতকে (২) সঙ্গে নিয়ে লাশ দাফনের জন্য রওনা হন শ্বশুরবাড়িতে।

রবিবার (৩০ জুন) এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর দিনে ঘটেছে এ ঘটনা। নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কাশেম। দুপুরে তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুনা স্বামীর লাশ নিয়ে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান।

আবুল কাশেম একটি টোব্যাকো কোম্পানিতে চাকরি করতেন। দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার সদর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। রোববার ভোরে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে আবুল কাশেম ও রোকসানা আক্তার রুনা দম্পতির মেয়ে ফাহমিদা আক্তার এবার কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। রোববার সকালে পিতার লাশ ঘরে রেখেই ফাহমিদা কক্সবাজার সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যায়। রোকসানা আক্তার রুনা খবর নিতে পারেনি মেয়ের পরীক্ষা কেমন হয়েছে। রোকসানা আক্তার দুপুরে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছেই স্বামী ও মেয়ের কথা বলে আহাজারি করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। এ সময় বাড়ির লোকজন নানাভাবে তাকে সান্ত্বনা দেন।

ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম বলেন, মেয়েকে পরীক্ষার কেন্দ্রে পাঠিয়ে স্বামীর লাশ নিয়ে রোকসানা আক্তার কক্সবাজার সদর এলাকা থেকে গ্রামে আসা যেন ভাবতে শরীর শিউরে ওঠে। বাড়িতে ফেরার ঘটনা এলাকার মানুষের মনে বিষাদের ছায়া ফেলেছে। বিকেলে আসরের নামাজের পর বাড়ির পাশেই পারিবারিক কবরস্থানে আবুল কাশেমের লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। মৃত আবুল কাশেম গোসাইপুর গ্রামের মৃত মৌলভী হাফেজ উল্লাহর ছেলে। ছয় ভাইয়ের মধ্যে তিনি পঞ্চম।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০১/০৭/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.