এইমাত্র পাওয়া

সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে কর

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ রয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের। তাই সরকার যে কোনো উপায়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে চায়। আর সেই রাজস্ব আয় বাড়ানোর অস্ত্র হিসাবে আগামী অর্থবছরের বাজেটকেই বেছে নিয়েছে সরকার। ফলে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে করের আধিক্য দেখা যেতে যারে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ দূরের কথা, বেড়ে যেতে পারে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) সংগ্রহ করতে হবে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা বেশি। অন্যদিকে কর ব্যতীত প্রাপ্তি থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা।

ফলে বড় অঙ্কের রাজস্ব সংগ্রহ করতে সর্বত্রই কর বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে কর ব্যতীত প্রাপ্তির নানা খাতের কর।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকেও বাজেটে রাজস্ব বৃদ্ধির চাপ আছে। বাংলাদেশে বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহের হার ৮ শতাংশের কম। ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি অনুমোদনের সময় আইএমএফ বলে দিয়েছিল, বাংলাদেশকে রাজস্ব-জিডিপির হার বছরে দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়াতে হবে।

সেজন্যই সরকার রাজস্ব আয় বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আইএমএফ শুধু রাজস্ব আয় বৃদ্ধির চাপই দেয়নি, কোন কোন খাত থেকে কর বৃদ্ধি করা যায় তারও দিকনির্দেশনা দিয়েছে। সেই সঙ্গে কর ছাড়ের ব্যাপারে ঘোরতর আপত্তি তুলেছে। ফলে আইএমএফের পরামর্শ অনুসরণ করেই সরকার আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির এক মেগা কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে। ফলে আগামী বছরের বাজেটকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির বাজেট বললেও ভুল হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এনবিআর নিয়ন্ত্রিত কর ॥ সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রধান তিনটি উৎস হচ্ছে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও শুল্ক। এ উৎসগুলো থেকে আয় সংগ্রহের দায়িত্ব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। এক্ষেত্রে আয়কর হচ্ছে প্রতক্ষ কর এবং ভ্যাট ও শুল্ক হচ্ছে পরোক্ষ কর।

শুল্কের মধ্যে রয়েছে আবার আমদানি শুল্ক, রপ্তানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ইত্যাদি। রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার আগামী বাজেটে আয়কর যেমন বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে, তেমনি আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
বাড়ছে বিত্তশালীদের কর ॥ বর্তমান বাজেটে মানুষের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা; অর্থাৎ কেউ যদি বছরে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি আয় করেন, তাকে কর দিতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। ২৬ মাস ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি প্রায় ২ অঙ্কের ঘরে। আবার মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি কম টানা ২৭ মাস।

অর্থনীতির পরিভাষায় মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি কম হলে সেটি অর্থনীতির বড় সংকটের ইঙ্গিতই দেয়। মূল্যস্ফীতির এই বাজারে সংসার খরচ মিটিয়ে সরকারকে কর দেওয়া যে কোনো নাগরিকের পক্ষে শুধু কঠিনই নয়, প্রায় অসম্ভবই বটে। এই দুর্বিষহ অবস্থা সত্ত্বেও রাজস্ব বাড়ানোর তাগিদ থেকে আগামী বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ছে না।
প্রত্যক্ত করের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়াতে আগামী বাজেটে বিত্তশালীদের কাছ থেকে বাড়তি কর আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। বর্তমানে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ রয়েছে। বছরে সাড়ে ১৬ লাখ টাকার বেশি আয় থাকলে ২৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। এটিকে বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরে ৩০ শতাংশ করা হচ্ছে।

পাশাপাশি করের আওতা বাড়ানোর তথাকথিত উদ্যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্র। এটি করতে পারলে কর বিভাগ বাড়তি অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি আদায় করতে পারবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/জামান/০৪/০৬/২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.