মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আক্তার সীমা। সেই স্কুলের সীমানা ঘেঁষে তিনি গড়ে তুলেছেন মোস্তফা দেলোয়ারা কিন্ডার গার্টেন নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মাহমুদা আক্তারই এই কিন্ডার গার্টেনের মালিক।
জানা গেছে, বাবা-মায়ের নামেই তিনি বেসরকারি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি করেছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেলেও এটা তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। যে জন্য তিনি কর্মস্থলে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। অথচ বেতনভাতা ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সরকারের কাছ থেকে নিয়ে থাকেন তিনি।
এলাকাবাসী জানান, সীমা নিজের গড়া এই কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষার্থীদের আসতে বাধ্য করেন এবং উৎসাহ দিয়ে থাকেন। এতে করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর হার কমে গেলেও কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থীর হার বেড়ে যাচ্ছে।
তারা আরও জানান, ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রত্যন্ত গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছিল ফোর্ডনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ঐ সময় জমি দান করেন হোসেন উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন ও আকালী মাদবর। বর্তমানে বিদ্যালয়টির সীমানা ঘেঁষেই নির্মাণ করা হয়েছে এই কিন্ডার গার্টেন। রাস্তার দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উত্তর পাশে এই কিন্ডার গার্টেনটি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে কিন্ডার গার্টেন নির্মাণে বিধি-নিষেধ থাকলেও এখানে এসব আইনকানুন মানা হচ্ছে না।
বর্তমানে ফোর্ডনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসংখ্যা মাত্র ২৩৩ জন। অথচ ঐ কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থীসংখ্যা ৭০০ জন। শুধু তাই নয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীরা বৃত্তি লাভ না করলে ঐ কিন্ডার গার্টেনে এবারেও তিন জন বৃত্তি লাভ করেছে। অথচ বইসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে এই কিন্ডার গার্টেনটি।
ফোর্ডনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ইউসুফ খাঁ বলেন, এই কিন্ডার গার্টেনটি হওয়াতে আমার এই স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। যেখানে আগে ৪০০ শিক্ষার্থীর উপরে ছিল এখন কমে গিয়ে ২৩৩ জন হয়েছে। যেহেতু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার বাবা-মায়ের নামে দেয়া এই কিন্ডার গার্টেনটি। যে কারণে সে তার বোন ভাইয়েরা ঐ স্কুলটিকেই সব ধরনের সহযোগিতা করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা নার্গিস আক্তার বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এমন ৩৪ কিন্ডার গার্টেনের তালিকা তৈরি করেছি এবং ঐসব প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে বলছি। যদি না সরায় তাহলে তাদের এবারে বই দেয়া হবে না। এর মধ্যে এই মোস্তফা দেলোয়ারা কিন্ডার গার্টেনটিও রয়েছে একদম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেলা রহমত উল্লাহ বলেন, যেসব কিন্ডার গার্টেন সরকারি নিয়ম মানছে না তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আক্তার বলেন, এই বিদ্যালয়ের পাশে দুটি কিন্ডার গার্টেন এবং ছয়টি মাদরাসা রয়েছে। মাদরাসাগুলোতে এতিমদের কথা বলে ডোনেসন এনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এছাড়া এটা একটা শিল্প এলাকা। প্রাইমারি বললে নিজেকে দুর্বল মনে হয়, যে কারণে অনেকে গর্ববোধ ও টাকার অহংকার করে বলেন, আমার সন্তানকে কিন্ডার গার্টেনে পড়াই। যে কারণে শিক্ষার্থীর হার কমে যাচ্ছে প্রাইমারি স্কুলে। এছাড়া কিন্ডার গার্টেনের কোনো কাজেই তিনি জড়িত না বলেও জানান।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
