এইমাত্র পাওয়া

হিট অ্যালার্টের মধ্যেই খুলছে স্কুল, এই সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ঢাকাঃ চতুর্থ দফায় হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে আগামী রবিবার থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বৃদ্ধ ও শিশুদের এই তাপমাত্রার মধ্যে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুরা স্কুলে গিয়ে রোগব্যধিতে আক্রান্ত হলে এর দায় নেবে কে? এমনকি কোনো বাচ্চার যদি বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি এর দায় এড়াতে পারবে? আবার নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবারও স্কুল খোলা থাকবে। অর্থাৎ সপ্তাহে পাঁচ দিন নয়, এখন থেকে ছয় দিন স্কুলে যেতে হবে শিশুদের। এই সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সফি আহমেদ বলেন, ‘এই তাপমাত্রার মধ্যে শিশুদের কোনোভাবেই ঘর থেকে বের হওয়া উচিত না। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে শিশুরা বাইরে গেলে নানা ধরনের রোগব্যধিতে আক্রান্ত হতে পারে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখাই ভালো। বৃষ্টি হওয়ার পর তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তখন স্কুল খুললে ভালো হতো।’

এদিকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত শনিবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য কারণে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকার ফলে যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ এবং নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী শিখন ফল অর্জনের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহের শনিবারও শ্রেণি কার্যক্রম চলবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোসাম্মৎ রহিমা আক্তারের সই করা প্রজ্ঞাপনে চারটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, আগামী ২৮ এপ্রিল রবিবার থেকে যথারীতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে এবং শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নির্দেশনায় আরো বলা হয় তাপপ্রবাহ সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত অ্যাসেম্বলি বন্ধ থাকবে। শ্রেণি কার্যক্রমের যে অংশটুকু শ্রেণিকক্ষের বাইরে পরিচালিত হয়ে থাকে এবং শিক্ষার্থীদের সূর্যের সংস্পর্শে আসতে হয়, সেসব কার্যক্রম সীমিত থাকবে। পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে গত ২১ এপ্রিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ছিল। তবে দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘ ছুটি শেষেও খোলা হয়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

অভিভাবকরা বলছেন, অধিকাংশ স্কুলে এয়ার কন্ডিশনার নেই। পাশাপাশি বাচ্চাদের স্কুলে আনা নেওয়া করতে রিকশা-সিএনজিসহ নানা ধরনের যানবাহন ব্যবহার করতে হয়। এতে দীর্ঘ সময় রোদ্রের মধ্যে রাস্তায় থাকতে হয় শিশুদের। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই ধরনের সিদ্ধান্তে অনেক বাচ্চা রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক অভিভাবক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেকে পত্রিকা অফিসে ফোন করে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, আর এক সপ্তাহ স্কুল বন্ধ রাখলে কী এমন ক্ষতি হবে? কিন্তু এই তাপমাত্রার মধ্যে বাচ্চারা স্কুলে গেলে বরং ক্ষতি বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এইচএম/২৬/০৪/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading