এইমাত্র পাওয়া

গুচ্ছ নিয়ে দোটানায় ইবি: না যাওয়ার সিন্ধান্তে অনড় শিক্ষক সমিতি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকঃ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৭ এপ্রিল এ ইউনিটের (বিজ্ঞান) ভর্তি পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভুক্ত ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। তবে গুচ্ছ নাকি নিজস্ব পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা এ নিয়ে এখনো দোলাচলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। আগে একাডেমিক কাউন্সিলের সিন্ধান্ত অনুযায়ী গুচ্ছে না যাওয়ার সিন্ধান্তে অনড় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি।

সর্বশেষ শনিবার (২৩ মার্চ) শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় ১৫ সদস্যের কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক ছাড়া অন্যদের সাতজন গুচ্ছে না যাওয়ার পক্ষে এবং ছয়জন গুচ্ছে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গুচ্ছে না যাওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত হলে এ সিন্ধান্তের বিপক্ষে নোট অব ডিসেন্ট দেন সমিতির সহসভাপতি ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদসহ ছয়জন সদস্য।

নোট অব ডিসেন্টে বলা হয়, ইতোমধ্যে ১৫ হাজারের অধিক আবেদনকারী ইবিকে গুচ্ছের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এছাড়া এবছর ইবিসহ ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দিয়ে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিতে শিক্ষামন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই ঐ ৬ শিক্ষক নেতা মনে করেন বর্তমান পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে গুচ্ছ থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। তাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমুর্তি সুরক্ষা ও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সংশয় নিরসনে এ বছরের মত গুচ্ছভুক্ত হয়েই ইবি ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করবে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ আজাদ বলেন, ইতোমধ্যে, ইউজিসি, সরকারের বিভিন্ন মহলের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় সরকারের অভিপ্রায় রয়েছে। এ বছরে ১৫ হাজারেরও অধিক ভর্তিচ্ছু ইবিকে কেন্দ্র হিসেবে আবেদন করেছেন। তাই, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা নিরশনে আমরা মনে করি এই বছরের মত গুচ্ছের বাইরে যেয়ে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ভর্তির নামে কালক্ষেপণের আর সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, দ্বিমত পোষণ গনতান্ত্রিক অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা। এটা সিন্ধান্তের অংশ নয়। সিন্ধান্ত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে। ৬ জন বিরোধিতা করেছে তারমানে ধরে নিতে হবে বাকি ৯ জন সিন্ধান্তের পক্ষে। এ অবস্থায় প্রশাসন গুচ্ছে গেলে আমরা কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবো না। মহামান্য রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায়ে যেকোনো কিছু হতে পারে। তবে মহামান্য আচার্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিংবা শিক্ষা মন্ত্রীর এবিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা এখনো নেই।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা থাকায় সভাপতি হিসেবে আমি কোন পক্ষে মত দিতে পারি না। নিয়ম অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতই সিদ্ধান্ত। তবে একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবং গুচ্ছে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গুচ্ছে অংশ নেওয়া উচিৎ।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আহ্বায়ক ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ইবি প্রশাসন আমাকে গুচ্ছে যাবে বলে নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। আমাদের প্রবেশপত্র, আসনবিন্যাস সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নিয়ে যে সমস্ত গোপন কাজ করতে হয় পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্ন করা প্রশ্নের মান নির্বাচন সবকিছুই এখন কমপ্লিট। এবছর তাই ইবি কেনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরই আর গুচ্ছ থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। শুধু ইবি প্রশাসন নয় আমার শিক্ষক সমিতির সভাপতির সঙ্গেও কথা হয়েছে তিনি বলেছেন গুচ্ছে যাবে। এখন যদি কেউ এই পদ্ধতিতে না যেতে চায় তবে তা হবে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা।

ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান বলেন, আমি মনে করি এ ধরনের সিদ্ধান্ত জাতির জন্য শুভকর নয়। কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং তাদের অবিভাবকদের কষ্ট লাঘবের জন্য গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়েছিল। যেহেতু তারা বিগত বছরগুলোতে অংশগ্রহণ করেছে। এবছরও তাদের অংশগ্রহণ করা উচিত। মহামান্য রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, চিঠি এভাবে ওনাদের কাছে দেয় না এটা ইউজিসিকে দেওয়া হয়। যা বিভিন্ন সময়ে পত্র- পত্রিকায় এসেছে। গতবছরও মহামান্য গুচ্ছে থাকার বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি তো আর ঐভাবে সিন্ধান্ত দেবেন না, যে আমি সিন্ধান্ত দিলাম আপনারা মেনে নিন। ওনারা শিক্ষক সমাজ ওনাদের অনুরোধ করেই চিঠি দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা গুচ্ছে অংশগ্রহণ করলেও এবছর আমরা গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তে ছিলাম। আমরা যে যাচ্ছি না এর আগেও তাদের জানিয়েছিলাম। জানানোর পরও যখন গুচ্ছওয়ালারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২৪ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম যুক্ত করলো। আমি তখন তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম আমাদের কেনো যুক্ত করেছেন। তখন তারা বললেন, সরকার থেকে আমাদের বলা হয়েছে যুক্ত করার জন্য।

তবে আমি বিশ্বাস করি শিক্ষকদের ছাড়া একটি পরীক্ষার কার্যক্রম চালানো যায় না এবং এটি উচিতও না। আমি শিক্ষকদের আহ্বান জানাবো যে আমরা শিক্ষক হলেও কিন্তু সরকারের লোক। আমাদের এর বাইরে চিন্তাভাবনা করার কোনো সুযোগ নেই। আমি তাদের আবারও আহ্বান জানাবো, দরকার পড়লে লিখিত আহ্বান জানাবো। আমরা যে গভর্মেন্টের পক্ষে কাজ করি তারই বিরোধিতা করবো এটাতো হতে পারে না। এতো জেদাজিদিতো ভালো না। ১৫ হাজার ছেলের মেয়ের জীবন নিয়ে জেদ করা কি ভালো?

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৬/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.