রংপুরঃ জেলার মিঠাপুকুরে বৈরাতী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে (মিঠাপুকুর সি-কেন্দ্র কোড ৫২৩) এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর না দেয়ার ভয় দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কেদ্রসচিব ও চারজন সহকারী শিক্ষক এ কাজ করেছেন।
গত ৪ দিনব্যাপী চলা এই পরীক্ষায় প্রত্যেক পরিক্ষার্থীকে কেন্দ্র ফি ছাড়াও আলাদাভাবে ২০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ জুন) পদার্থ বিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালীন সময় এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও টাকা নেওয়া হয়েছে এর আগে সম্পন্ন হওয়া ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, টাকা না দিলে পরীক্ষক খাতায় নম্বার কমিয়ে দিবে। এর আগের সবগুলো পরীক্ষায় আমরা টাকা দিয়েছি। তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষক এসে জানান, টাকা না দিলে পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া হবে না। তাই আমরা বাধ্য হয়েই টাকা দিয়েছি। আমাদের সাথের সব শিক্ষার্থীরাই এ টাকা দিয়েছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৈরাতী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫ টি বিষয়ে ২৭৫১ জন শিক্ষার্থী ব্যাবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক মো: রিফুজার রহমান রিপন (ইন্ডেক্স নং ১০৩৯৬১২) ৬২৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৩১হাজার দু’শত ৫০ টাকা উত্তোলন করেছেন। রসায়নের শিক্ষক প্রকাশ চন্দ্র সরকার (ইন্ডেক্স নং ১১১৪৩৭৫) ৬২০ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর থেকে ৫০ টাকা করে ৩১ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। জীব বিজ্ঞান শিক্ষক রণজিৎ কুমার (ইন্ডেক্স নং ১০২৮২৯৬) ৬২০ জন শিক্ষার্থীর থেকে ৩১ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। কৃষি বিষয়ের শিক্ষিকা মোছা: আফরোজা খাতুন (ইন্ডেক্স নং ৫৬৬২৪৫) ৭২২ জন শিক্ষার্থীর থেকে ৩৬ হাজার এক’ শ টাকা উত্তোলন করেন। উচ্চতর গণিত ব্যবহারিক খাতায় নম্বর দিতে শিক্ষক রিফুজার রহমান রিপন ১৬৫ জন শিক্ষার্থীর নিকট হতে ৮ হাজার দুই’শ ৫০ টাকা নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার অর্ধেক কেন্দ্র সচিব নেবেন। বাকি টাকা স্ব স্ব বিষয়ের চারজন শিক্ষকরা নেবেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব একেএম আব্দুস সালাম মন্ডল (ইন্ডেক্স নং২৫১৩২৫) বলেন, যুগ যুগ ধরে এই নিয়ম চলে আসছে। অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে ব্যাপারগুলি বাইরে আসছে।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিকাশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ব্যাপারটি জানলাম তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/জোমান/২০/০৩/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
