এইমাত্র পাওয়া

ডিম আগে না মুরগি: রহস্যের জট ছাড়ালেন বিজ্ঞানীরা

ব্রিটেনের একদল গবেষক ‘বৈজ্ঞানিক ভাবে’ প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, মুরগিই আগে। ডিম পরে। সূত্র: দি ওয়াল

‘নেচার ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন’ জার্নালে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, মুরগিই আগে এসেছে পৃথিবীতে। ডিম অনেক পরে।

ব্রিস্টল স্কুল অব আর্থ সায়েন্সের গবেষক-অধ্যাপক মাইকেল বেন্টন গবেষণাপত্রে লিখে বুঝিয়েছেন, ৩২০ মিলিয়ন বছর আগে টেট্রাপডরা রাজত্ব করত পৃথিবীতে। তারপর আসে উভচরেরা। জীবজগতে দুই ধরনের প্রাণী দেখতে পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী এবং অপরটি হচ্ছে উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণীর উদাহরণ হচ্ছে- সরীসৃপ এবং উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী হচ্ছে- পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উভচর ও সরীসৃপদেরও অভিযোজন ঘটেছে। উভচররা জল ও স্থল দু’জায়গাতেই নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছে। বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে খাপ খাইয়ে তাদের অভিযোজন ঘটেছে।

বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, কার্বোনিফেরাস যুগে সরীসৃপরা আসে। সরীসৃপদের জেনেটিক বদলে পাখিদের উৎপত্তি হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সরীসৃপদের থেকে পাখিদের বিবর্তন জুরাসিক যুগে হয়েছিল। আবং. আবং-এর প্রাচীনতম পরিচিত প্রজাতি হল আর্কিওপটেরিক্স লিথোগ্রাফিকা। এদের ডানা, পালক, ঠোঁট ছিল। এর থেকেই মনে করা হয় সরীসৃপ থেকে ধীরে ধীরে কালের বিবর্তনে পাখিদের জন্ম হয়। বিজ্ঞানীরা বলেন, পাখিরা হল ম্যানিরাপ্টোরান থেরোপড ডাইনোসরের বিবর্তন থেকে এসেছে, যাদের জন্ম হয়েছিল মেসোজোয়িক যুগে।

 উনবিংশ শতাব্দীতে জার্মানিতে আদিম পাখি আর্কিওপটেরিক্স আবিষ্কারের পর ডাইনোসর ও পাখিদের মধ্যে একটা যোগসূত্র তৈরি হয়। খুব ছোট ডাইনোসর অ্যাঙ্কিওরনিসের জীবাশ্ম পরবর্তী সময়ে পাওয়া যায় যাদের পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেন, এই প্রজাতির সরীসৃপদের পাখির মতো লম্বা পা ও পালক ছিল। এর পরে নানা সময়ে এমন অনেক তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে যা থেকে বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, সরীসৃপ থেকেই বিবর্তনের ধারায় পাখিদের উৎপত্তি হয়েছে। সুতরাং পাখিরা আগে এসেছে, তারপরে ডিম তৈরি হয়েছে।

গবেষকদের দাবি, ডিমের মধ্যে যে সাদা অংশটি থাকে তাতে ওভোক্লিডিন (ওসি-১৭) নামে প্রোটিন থাকে। ডিমের সৃষ্টিতে এই প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর এই ওভোক্লিডিন প্রোটিন মুরগির গর্ভাশয়ে পাওয়া যায়। গবেষকদের দাবি, এর থেকে স্পষ্ট ভাবে প্রমাণ হয়ে যায়, প্রথমে মুরগি এসেছে। তার পর তার গর্ভাশয়ে ওভোক্লিডিন প্রোটিন তৈরি হয়েছে। সেই প্রোটিন থেকেই ডিমের সৃষ্টি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.