শেকৃবি গ্রিনহাউজ: ৮ মাসের কাজ শেষ হয়নি ২৪ মাসেও

ঢাকাঃ রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রিনহাউজ নির্মাণ কাজ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। এখন অবধি কাজ শেষ করতে পারেনি প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও চাহিদাপত্রের মান অনুযায়ী গ্রিনহাউজ নির্মাণ হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২’র ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রিনহাউজ তৈরির জন্য ১২ কোটি ১০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা দাখিলকৃত দরে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যেখানে বেশকিছু যন্ত্রাংশই ছিল অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত। এই প্রকল্পের সময়সীমা ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর অবধি। তবে দুই দফায় সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি।

২০২৩ এর জুন অবধি কাজ শেষ না হওয়ায় টেন্ডারে থাকা অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি বাদ দেওয়া হয় রিভাইসড টেন্ডারের সময়। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়। পরে প্রকল্পের দর ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা নির্ধারণ হয়।

অভিযোগ পাওয়া যায়, কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গ্রিনহাউজ তৈরিতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। নির্মাণে দায়িত্বরত প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী গ্রিনহাউজ নির্মাণ করে দিবেন বলেও জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রিনহাউজ নির্মাণে পলিকার্বনেটেড দেয়ালে প্রাথমিকভাবে নিম্নমানের এক্সিস্টর ফ্যান এবং লাইট লাগানো হয়। পরবর্তীতে টেকনিক্যাল কমিটির বিরোধিতায় তা পরিবর্তন করা হয়। এছাড়াও গ্রিনহাউজ এর পলিকার্বনেটেড দেয়ালে ৮মিমি শিট ব্যবহারের কথা থাকলেও তা অপেক্ষাকৃত পাতলা। এখনো গ্রিনহাউজের কার্বন ডাই অক্সাইড প্রোডাকশন এবং কন্ট্রোল ইউনিট ইন্সটল কাজ বাকি। এছাড়াও সম্পূর্ণ অটোমেশন সিস্টেম সম্পূর্ণ হয়নি।

গ্রিনহাউজ নির্মাণ বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘গ্রিনহাউজটি মানসম্মত হচ্ছে না। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে আরো ত্বরান্বিত করতে পারত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সচেতন হওয়া উচিত ছিল।’

কার্যাদেশ পাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানানো হয়, সর্বনিম্ন ও রিসপন্সিভ দরপত্র দাখিলের জন্য ৫টি কোম্পানির মধ্যে কর্মরত প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুল হক কাজল বলেন, করোনা পরবর্তী সময় ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যন্ত্রপাতি আসায় বিলম্ব হয়েছে। তবে এখন কোনো শিক্ষক চাইলে আমরা গ্রিনহাউজ ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দিতে পারব। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের থেকে গ্রিনহাউজ সম্পূর্ণ বুঝে পাব।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.