কুষ্টিয়াঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক নবীন শিক্ষার্থীকে উলঙ্গ করে নির্যাতনের ঘটনার পর পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর হল থেকে লাপাত্তা হয়েছেন অভিযুক্তরা। এছাড়া ঘটনা গোপন রাখতে হুমকির পাশাপাশি তাকে হাতে রাখতে বিশেষ সুবিধায় গণরুম অন্য কক্ষে সিঙ্গেল সিটে থাকার ব্যবস্থা করেছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এর পর ঘটনার বিষয়ে নিজের কোনো দাবি নেই বলে হল প্রশাসনের কাছে লিখিত দিয়েছে ভুক্তভোগী।
এদিকে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেয়ার ঘটনা সামনে আসার পর বুধবার অভিযুক্তদের বিচার চেয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ। তবে দলীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংগঠনটি।
জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে লালন শাহ হলের ১৩৬ নম্বর কক্ষে ভুক্তভোগীকে উলঙ্গ করে র্যাগিংয়ের পরদিন পর্যন্ত কয়েক দফায় সমঝোতা মিটিং করেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এরপর থেকে আর হলে দেখা যাচ্ছে না অভিযুক্ত মুদাচ্ছির খান কাফী, মোহাম্মদ সাগর ও তাদের সাথে থাকা উজ্জ্বল ও ইউসুফ সানিকে। এছাড়া হল প্রশাসন তাদের সাথে যোগযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনার পর ভুক্তভোগীকে ঘটনা সম্পর্কে কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে গণরুম থেকে হলের ৩০২ নম্বর কক্ষে সিঙ্গেল সিটে রাখার ব্যবস্থা করেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীর। ঘটনার পর ভুক্তভোগী অভিযুক্তদের সাথে থাকতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগ নেতারা।
এদিকে ঘটনার অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ড. আকতার হোসেন। তিনি বলেন,‘ঘটনা জানার পর আমি দু’পক্ষের সাথে যোগাযোগের জন্য ওই কক্ষে লোক পাঠিছেছিলাম, কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। ওরা একটু টেকনিক্যালি চলছে। তবে আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।’
হল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, অভিযুক্তদের সাথে কথা বলতে পারিনি, ভুক্তভোগীর সাথে কথা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী বলেছে,‘আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না, আমি মানষিকভাবে খুব বিপর্যস্ত। আর আমি ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছিনা।’ আমরা অন্যান্য সকলের কাছে তথ্য চেয়েছি।
এদিকে ঘটনার পর শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট ড. দেবাশীষ শর্মাকে আহ্বায়ক করে আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে ড. দেবশীষ বলেন, আমি এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত ডকুমেন্ট পাইনি। নির্দেশনা পেলে শনিবার কাজ শুরু করবো।
উল্লেখ্য, অভিযুক্তরা সকলেই শাখা ছাত্রলীগ কর্মী ও শাখা সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের অনুসারী। এছাড়া কাফি ফেনীর পরশুরাম উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক। এছাড়া কাফী ও সাগরের বিরুদ্ধে হলের কক্ষে বিভিন্ন সময়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে উশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ করেছে হলের অন্য শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৫/০২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
